ব্যবসায় উদ্যোগ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
আরিফ হোসেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সাভারের একটি স্পিনিং মিলে চাকরি করেন। সুতার বিষয়ে তার জ্ঞান অনেক ভালো। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নানান রঙ-বেরঙের সুতার ব্যবহার করে নিজ বাড়ির সদস্যদের সহায়তায় সুতার টুপি, ওয়ালম্যাট ও চাদর তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। কারখানায় উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করে। তাই তিনি সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও শ্রমিক বৃদ্ধি করেন।
- ক)(1)
কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি কী?
- খ)(2)
সেবা শিল্প বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
আরিফ হোসেনের ব্যবসায়ের ধরন কোনটি? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
শিল্পোন্নয়নে আরিফ হোসেনের করণীয় মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
একই এলাকার প্রাথমিক সমবায় সমিতিগুলো একত্র হয়ে যে সমিতি গঠন করে, তাকে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি, স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদ ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবামূলক কর্ম সম্পাদন করে, সেগুলো সেবা শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। এ শিল্প পণ্য উৎপাদন না করে সেবা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে। যেমন- হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পরিবহন ও যোগাযোগ, পর্যটন, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামার, বিনোদন শিল্প ইত্যাদি।
- গ)
আরিফ হোসেনের ব্যবসায়টি একটি কুটির শিল্প।
১. কুটির শিল্প পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেখানে সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় উৎপাদন বা সেবা কাজ পরিচালিত হয়।
২. উদ্দীপকে আরিফ নিজ বাড়ির সদস্যদের সহায়তায় সুতার টুপি, ওয়ালম্যাট ও চাদর তৈরি করেন; এগুলো তাঁত ও বস্ত্র শিল্পের কুটির শিল্পজাত সামগ্রী।
৩. এখানে কাঁচামাল রূপান্তর করে পণ্য উৎপাদন করা হয়, তাই এটি উৎপাদনমুখী শিল্প এবং আকারে কুটির শিল্প।অতএব, আরিফ হোসেনের ব্যবসায়ের ধরন কুটির শিল্প।
- ঘ)
আরিফ হোসেন স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকা পণ্য উৎপাদন করে ইতোমধ্যে সফল হয়েছেন এবং ব্যবসায় সম্প্রসারণ করছেন। শিল্পোন্নয়নে তাঁর করণীয় হলো:
১. গুণগত মান বজায় রাখা ও নতুন পণ্য উদ্ভাবন: পণ্যের মান ধরে রেখে নতুন নকশা ও পণ্য যুক্ত করে বাজার বাড়ানো।
২. প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ: শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ধাপে ধাপে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা।
৩. সহায়ক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা: বিসিকের মতো সংস্থা থেকে তথ্য, পরামর্শ ও উদ্যোগ উন্নয়ন সহায়তা নেওয়া এবং ব্যাংকঋণ সঠিকভাবে কাজে লাগানো।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: আরও শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানো।সুতরাং, এসব পদক্ষেপ নিলে আরিফ হোসেনের কারখানা কুটির শিল্প থেকে বড় শিল্পের দিকে এগোতে পারবে এবং শিল্পোন্নয়নে অবদান রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও