বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শফিক ঢাকায় একটি কোম্পানিতে নাইটগার্ডের চাকরি করে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তার ডিউটি। সারারাত কোম্পানির মালামালের পাহাড়াদারির গুরুদায়িত্ব সে বিশ্বস্ততার সাথে পালন করে। ছয় মাস পর পর সে ছুটিতে বাড়ি আসে। এ দিকে তার স্ত্রী-সন্তানেরা তার পথ চেয়ে বসে থাকে । কবে সে ফিরবে । স্বমীর কথা ভাবতে ভাবতে তার স্ত্রীর কত নির্ঘুম রাত কাটে ।
- ক)(1)
অবাক রাতের তারারা কীভাবে চায়?
- খ)(2)
‘জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে'- চরণটি ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শফিকের স্ত্রীর মধ্যে 'রানার' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের শফিক ‘রানার' কবিতার রানারের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেনি।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অবাক রাতের তারারা অবাক বিস্ময়ে অপলক চেয়ে থাকে।
- খ)
এ চরণের মাধ্যমে কবি শ্রমজীবী মানুষের শোষণের কথা বলেছেন। রানারের মতো মানুষেরা সারা জীবন রাতের পর রাত জেগে খেটে চলে।
ধনিক শ্রেণি অতি অল্প মজুরির বিনিময়ে তাদের শ্রম, ঘুম ও জীবনের সময় কিনে নেয়। অর্থাৎ তাদের জীবনের মূল্য সামান্য পারিশ্রমিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে শ্রমিকের প্রতি সমাজের বৈষম্য ও শোষণ ফুটে ওঠে। - গ)
উদ্দীপকে শফিকের স্ত্রী ও সন্তানেরা তার ফেরার পথ চেয়ে থাকে এবং স্ত্রীর কত রাত নির্ঘুম কাটে। 'রানার' কবিতায়ও রানারের প্রিয়জনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার দিকটি আছে। দূরে থাকা রানারের কথা ভেবে তাদের মনও অস্থির থাকে।
সুতরাং, প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষা ও নির্ঘুম উৎকণ্ঠার দিকটি উদ্দীপক ও কবিতায় মিল রেখেছে। - ঘ)
মন্তব্যটি আংশিক যথার্থ, কারণ উদ্দীপকে রানারের পুরো চিত্র নেই।
১. শফিক ও রানার দুজনেই রাতে কাজ করে এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে। পরিবারও তাদের জন্য অপেক্ষা করে। এ দিক থেকে কিছু মিল আছে।
২. কিন্তু 'রানার' কবিতায় রানার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি। তার কষ্ট ও মজুরি-বৈষম্যের কথা এবং কবির সহানুভূতি মূল বিষয়। উদ্দীপকে শফিকের শোষণ বা বঞ্চনার কোনো উল্লেখ নেই।
৩. কবিতায় নতুন সূর্যোদয়ের আশা ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন আছে, যা উদ্দীপকে নেই।
সুতরাং, শফিক রানারের পূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও