বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বিজ্ঞান প্রশ্ন

ফারুক সাহেব হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলেন। ডাক্তার পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে তাকে জানালেন যে, তার পাম্পের মতো ত্রিকোণাকার সংকোচন প্রসারণশীল অঙ্গটিতে চর্বি জমে সমস্যাটি হয়েছে।

  1. ক)

    সিস্টোলিক রক্তচাপ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    শ্বেত রক্তকণিকা কীভাবে দেহের প্রহরী হিসেবে কাজ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি সুস্থ রাখার উপায় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের যে সর্বাধিক মান থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ বলে।

  2. খ)

    শ্বেত রক্তকণিকা দেহে রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে, তাই একে দেহের প্রহরী বলা হয়। দেহে জীবাণু ঢুকলে কিছু শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে গ্রাস করে ধ্বংস করে (ফ্যাগোসাইটোসিস)। আবার কিছু শ্বেত রক্তকণিকা অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করে। এভাবে এটি দেহকে রোগমুক্ত রাখে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড, যা পাম্পের মতো কাজ করে এবং ত্রিকোণাকার।

    হৃৎপিণ্ডের চিত্র (চিহ্নিত অংশসহ):

      মহাধমনি   ফুসফুসীয় ধমনি
      ঊর্ধ্ব মহাশিরা    ফুসফুসীয় শিরা
     ┌──────────┬──────────┐
     │ ডান অলিন্দ │ বাম অলিন্দ │
     ├─(ট্রাইকাসপিড ভালভ)─(বাইকাসপিড ভালভ)─┤
     │ ডান নিলয়  │ বাম নিলয়  │
     └─────╲────┼────╱─────┘
       আন্তঃনিলয় পর্দা
    

    চিহ্নিত অংশ: ডান অলিন্দ, বাম অলিন্দ, ডান নিলয়, বাম নিলয়, ট্রাইকাসপিড ভালভ, বাইকাসপিড ভালভ, আন্তঃঅলিন্দ ও আন্তঃনিলয় পর্দা, মহাধমনি, ফুসফুসীয় ধমনি, ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং ফুসফুসীয় শিরা।

    (খাতায় আঁকার সময় ত্রিকোণাকার হৃৎপিণ্ড এঁকে উপরে দুটি ছোট অলিন্দ ও নিচে দুটি বড় নিলয় দেখাতে হবে।)

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ফারুক সাহেবের হৃৎপিণ্ডে চর্বি জমেছে। হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করতে হবে।

    ১. খাদ্যাভ্যাস: তেল, চর্বি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার কম খেতে হবে, কারণ করোনারি ধমনিতে চর্বি জমলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় ও বুকে ব্যথা হয়। শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খেতে হবে এবং লবণ কম খেতে হবে।
    ২. ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম করতে হবে, যাতে হৃৎপেশি সবল থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
    ৩. ধূমপান বর্জন: ধূমপান ও তামাক পরিহার করতে হবে।
    ৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক চাপ হ্রাস: রক্তচাপ আদর্শ মাত্রায় (প্রায় 120/80 mmHg) রাখতে হবে এবং দুশ্চিন্তা এড়িয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
    ৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।

    সুতরাং, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন