বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: রিপন 'ক' নামক রাষ্ট্রের রাজক্ষমতায় আরোহণ করেই নিকট স্বজনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন। রিপনকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তার নিকটতম লোকজন বিদেশি বণিকদের সাথে হাত মিলিয়ে একটা যুদ্ধের সৃষ্টি করে। যুদ্ধে রিপনের অদূরদর্শিতা ও নিকটতমদের অসহযোগিতার কারণে তার পরাজয় হয়।দৃশ্যপট-২: জনাব শাহরিয়ার বিভিন্ন শর্তানুযায়ী ম্যানেজার শোভনকে একটা কোম্পানির পরিচালক হিসেবে মনোনীত করেন। পরবর্তীতে শোভনকে নামমাত্র দায়িত্ব দেওয়া হয়। অপরদিকে, শাহরিয়ার লাভ করেন অন্যান্য সকল ক্ষমতা।
- ক)(1)
আলীনগরের সন্ধি' কী?
- খ)(2)
অন্ধকূপ হত্যা কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রিপনের পরাজয়ের সাথে নবাবি শাসনামলের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, দৃশ্যপট-১ এর পরিণতিতেই দৃশ্যপট-২ এর সৃষ্টি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কলকাতা পুনর্দখলের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংরেজদের মধ্যে যে নতজানু ও অপমানজনক সন্ধি হয়, তা ইতিহাসে ‘আলীনগর সন্ধি’ নামে পরিচিত।
- খ)
নবাব সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা অধিকারের পর ইংরেজ কর্মকর্তা হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য একটি মিথ্যা প্রচারণা চালায়, যা ‘অন্ধকূপ হত্যা’ নামে পরিচিত। এতে বলা হয়, ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি প্রস্থের একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে নাকি ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। ঐতিহাসিকদের মতে এ কাহিনি ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। এই প্রচারণায় উত্তেজিত হয়ে ওয়াটসন ও ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে কলকাতায় আসে।
- গ)
রিপনের পরাজয়ের সাথে নবাবি শাসনামলের পলাশির যুদ্ধের (১৭৫৭) মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে রিপন ক্ষমতায় এসেই নিকট স্বজনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন। তারা বিদেশি বণিকদের সাথে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ বাধায় এবং অসহযোগিতা ও অদূরদর্শিতার কারণে রিপন হেরে যান। পলাশিতে ক্লাইভের সাথে জগৎ শেঠ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ ও প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। নবাবের বিজয় আসন্ন জেনেও মীর জাফর যুদ্ধ থামিয়ে দিয়ে নীরব দর্শক থাকে। সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। রিপনের মতোই তিনিও আপনজনের বিশ্বাসঘাতকতায় বিদেশি বণিকের কাছে পরাজিত হন।
- ঘ)
আমি মনে করি, দৃশ্যপট-১-এর পরিণতিতেই দৃশ্যপট-২-এর সৃষ্টি হয়েছে।
১. দৃশ্যপট-১ পলাশির যুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়। এই যুদ্ধের পর মীর জাফরকে নামেমাত্র নবাব করা হয়, প্রকৃত ক্ষমতা ছিল ক্লাইভের হাতে। এভাবে ইংরেজরা বাংলার রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ পায়।
২. পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। এর ফলে সৃষ্টি হয় দ্বৈতশাসন। কোম্পানি পায় দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব হন ক্ষমতাহীন শাসক, অথচ প্রশাসনের দায়িত্ব তাঁর ওপরই থেকে যায়।
৩. দৃশ্যপট-২-এ শাহরিয়ার সব ক্ষমতা নিজের হাতে রেখে শোভনকে শুধু নামমাত্র পরিচালক বানান। এটি দ্বৈতশাসনের অবিকল প্রতিচ্ছবি।
সুতরাং, পলাশির পরাজয়ে ইংরেজদের যে প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় দ্বৈতশাসন সৃষ্টি হয়েছিল; তাই দৃশ্যপট-২ দৃশ্যপট-১-এর পরিণতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও