বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    মহাসামন্ত বলা হতো কাকে?

    (1)
  2. খ)

    সমাজে মাৎস্যন্যায় এর প্রভাব কীরূপ ছিল?

    (2)
  3. গ)

    প্রদর্শিত চিত্রের নিদর্শনটি প্রাচীন বাংলার কোন শাসকের সময়কালকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত শাসকের পুত্র-রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি ধর্মের প্রসারেও' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    গুপ্ত রাজাদের অধীনে শশাঙ্ক মহাসামন্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন; অর্থাৎ বড় সামন্ত শাসককে মহাসামন্ত বলা হতো।

  2. খ)

    মাৎস্যন্যায় বলতে বোঝায় চরম অরাজকতা, যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করে। এর ফলে সমাজে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না। কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। বহিরাগত আক্রমণও সমাজকে আরও দুর্বল করে তোলে।

  3. গ)

    প্রদর্শিত চিত্রের নিদর্শনটি পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, যা পাল বংশের শাসক ধর্মপালের সময়কালকে নির্দেশ করে।

    ধর্মপাল (আনুমানিক ৭৭০–৮১০ খ্রি.) বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি সোমপুর মহাবিহার ও বিক্রমশীলা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সাম্রাজ্য বিস্তার করেন এবং কনৌজে নিজের মনোনীত শাসক বসান। তাঁর আমলে পাল বংশ উত্তর ভারতের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়।

  4. ঘ)

    ধর্মপালের পুত্র দেবপাল ছিলেন পাল বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক। রাজ্য বিস্তার ও ধর্মপ্রসার দুই ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. রাজ্য বিস্তার: দেবপাল প্রাগজ্যোতিষ (আসাম) ও উৎকল (উড়িষ্যা) অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে পাল সাম্রাজ্যের সীমানা বাড়ান।
    ২. বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা: তিনি পিতার মতো বৌদ্ধ ধর্ম ও বিহারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং নালন্দাসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ কেন্দ্রের উন্নতিতে সহায়তা করেন।
    ৩. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: সুবর্ণদ্বীপের শাসক বালপুত্রদেব নালন্দায় বিহার নির্মাণের জন্য অনুমতি চাইলে দেবপাল গ্রাম দান করেন; এতে বাংলার বৌদ্ধ ধর্মের আন্তর্জাতিক খ্যাতি প্রমাণিত হয়।

    সুতরাং, দেবপাল রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি ধর্মের প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন