ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

উদয়নগর গ্রামের বাসিন্দা আহমাদ আলী এলাকার একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি। তিনি এলাকার লোকজনকে অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং তাদের ভালো-মন্দ নিয়ে চিন্তা করেন। একদা এলাকার লোকজন ক্ষুদ্র বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দলে বিভক্ত হয় এবং তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। আহমাদ আলী সবাইকে একত্র করে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেন এবং সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ তোমাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। যাও তোমরা সবাই এক হয়ে যাও। তারপর সকলের উদ্দেশ্যে এক যুগান্তকারী ভাষণ প্রদান করে বলেন, "আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে না, নিজের সৎকর্ম দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে। সর্বদা অন্যের আমানত রক্ষা করবে এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে পূর্বের অনেক লোক এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে।"

  1. ক)

    আস-সাবউল মুয়াল্লাকাত কী?

    (1)
  2. খ)

    হিলফুল ফুযুল বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আহমাদ আলীর ক্ষমা করার বিষয়টি রাসুল (স)-এর জীবনের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষাংশে আহমাদ আলীর ভাষণের সাথে রাসুল (স)-এর যে ভাষণটি সাদৃশ্যপূর্ণ তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আস-সাবউল মুআল্লাকাত হলো জাহিলি যুগের সাতটি শ্রেষ্ঠ কবিতা, যা কাবাঘরের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো।

  2. খ)

    হিলফুল ফুযুল ছিল জাহিলি যুগের একটি শান্তি সংঘ, যা আরব গোত্রগুলোর পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ করে সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল অত্যাচারিতকে সাহায্য করা, দুর্বলের অধিকার রক্ষা করা এবং জুলুম প্রতিরোধ করা। তরুণ মুহাম্মদ (স) এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং পরবর্তীকালেও এর প্রশংসা করেন।

  3. গ)

    আহমাদ আলীর ক্ষমা করার বিষয়টি রাসুল (স) এর জীবনের মক্কা বিজয়ের ঘটনাকে নির্দেশ করে।

    ব্যাখ্যা: ৮ হিজরিতে মহানবি (স) বিনা রক্তপাতে মক্কা জয় করেন। যারা তাঁকে ও মুসলমানদের নির্যাতন করে মক্কা থেকে বের করেছিল, তাদের তিনি বলেন, 'আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, যাও তোমরা মুক্ত।' আহমাদ আলীও দলীয় সংঘর্ষের পর সবাইকে ক্ষমা করে ঐক্যের আহ্বান জানান, যা এই ঘটনার অনুরূপ।

  4. ঘ)

    আহমাদ আলীর ভাষণের সাথে মহানবি (স) এর বিদায় হজের ভাষণ সাদৃশ্যপূর্ণ। এতে তাওহিদ, শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড ও আমানতের কথা আছে।

    তাৎপর্য:
    ১. তাওহিদের ঘোষণা: আল্লাহর সাথে শরিক না করার নির্দেশ ইসলামের মূল ভিত্তি।
    ২. তাকওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব: বংশ বা বর্ণের ভিত্তিতে নয়, সৎকর্ম ও তাকওয়ার ভিত্তিতেই শ্রেষ্ঠত্ব।
    ৩. আমানত রক্ষা: অন্যের আমানত যথাযথ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ সামাজিক আস্থা বাড়ায়।
    ৪. পাপ থেকে সতর্কতা: পূর্ববর্তী জাতিরা পাপ ও বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে।

    সুতরাং, এই ভাষণ মানবাধিকার ও নৈতিকতার চিরন্তন সনদ। আহমাদ আলীর ভাষণ সেই আদর্শের ছোট্ট প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন