বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপক : ভয়াবহ টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড সমস্ত গ্রাম। অসহায় লোকগুলো খোলা আকাশের নিচে বোবা চাউনি মেলে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায়। কিন্তু দুর্গত মানুষ একদিনও এলাকার চেয়ারম্যান সাহেবের দেখা পাননি। চেয়ারম্যান কুদ্দুস আলী সাহেব নাকি ঢাকায় জরুরি কাজে ব্যস্ত আছেন। এ সময় তার বন্ধু রাকিব সাহেব দেখেন তাঁর ছেলে অনেক অবৈধ মালামাল ঘরে এনে রেখেছে। তিনি কাল বিলম্ব না করে পুলিশ ডেকে হাতেনাতে ধরিয়ে দেন।

  1. ক)

    হযরত উমর (রা.) কোথায় বসে অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন?

    (1)
  2. খ)

    হযরত উমর (রা.) এ সাথে আজানের স্মৃতি কীভাবে জড়িত?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যান কুদ্দুস আলী যে দিক থেকে ‘উমর ফারুক’ কবিতার হযরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ—তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের রাকিব সাহেবের মধ্যে ‘উমর ফারুক’ কবিতার হযরত উমর (রা.) এর ন্যায়ের শাসনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে”—মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হযরত উমর (রা.) খেজুর পাতার ছাউনির কুটিরে বসে অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন।

  2. খ)

    ‘উমর ফারুক’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম উমরের ধর্মপ্রাণতা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেছেন। আজান ইসলামের আহ্বান ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ভোরের আজান শুনলে মুসলমানের মনে ইসলামের সেই গৌরবময় যুগ ও খলিফা উমরের কর্তব্যনিষ্ঠা, সাধনা ও ন্যায়পরায়ণতার স্মৃতি জেগে ওঠে। এভাবে আজানের স্মৃতির সঙ্গে হযরত উমরের জীবন ও আদর্শ জড়িয়ে আছে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যান কুদ্দুস আলী টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াননি। তিনি ঢাকায় জরুরি কাজের অজুহাতে ব্যস্ত থেকেছেন। অন্যদিকে ‘উমর ফারুক’ কবিতার হযরত উমর (রা.) প্রজার দুঃখ-কষ্টকে নিজের মনে করে সাধারণ মানুষের মাঝে থেকেছেন এবং জনগণের সেবাকে নিজের দায়িত্ব বলে জেনেছেন।
    সুতরাং বৈসাদৃশ্যের দিকটি হলো দায়িত্ববোধ ও প্রজাদরদ। কুদ্দুস আলী দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন, আর উমর (রা.) ছিলেন আদর্শ, প্রজাবৎসল শাসক।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রাকিব সাহেব তাঁর ছেলের ঘরে অবৈধ মালামাল দেখে বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে পুলিশ ডেকে হাতেনাতে ধরিয়ে দেন। এখানে তাঁর ন্যায়নিষ্ঠা ও আপসহীন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
    ‘উমর ফারুক’ কবিতার হযরত উমর (রা.)-ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ছিলেন কঠোর ও নিরপেক্ষ। আপন-পর ভেদ না করে তিনি অপরাধীর বিচার করেছেন।
    ১. রাকিব সাহেব আপন সন্তানকেও ছাড় দেননি; উমরও আত্মীয়ের জন্য ন্যায়বিচারে ব্যত্যয় ঘটাননি।
    ২. দুজনেই ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে সত্য ও ন্যায়কে স্থান দিয়েছেন।
    ৩. তবে উমরের ন্যায়ের পরিসর ছিল রাষ্ট্রীয় শাসনব্যাপী, রাকিব সাহেবের ঘটনা পারিবারিক পরিসরে সীমিত।
    সুতরাং, রাকিব সাহেবের মধ্যে উমরের ন্যায়ের শাসনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে—মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন