ব্যবসায় উদ্যোগ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

সুমন, সুজন এবং স্বপন তিন ভাই মিলে তিন বছরের জন্য একটি সেলুন প্রতিষ্ঠা করে। তারা সকলে ব্যবসায়ে পুঁজি বিনিয়োগ করে। কিন্তু সুমন ও স্বপন দেশে থাকায় ব্যবসায় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। সুজন বিদেশে থাকায় ব্যবসায়ের কোনো কাজে অংশগ্রহণ করে না। কিন্তু মুনাফা পেয়ে থাকে। তিন বছর পর ব্যবসায়ের সময় 'পার হলে সুমন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিলোপসাধন হয়।

  1. ক)

    অংশীদারি ব্যবসায় কী?

    (1)
  2. খ)

    কোন ধরনের ব্যবসায়ে গোপনীয়তা রক্ষা পায় বেশি? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সুজন কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির বিলোপসাধন প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির মাধ্যমে মিলিত হয়ে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে ব্যবসায় পরিচালনা করেন, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

  2. খ)

    একমালিকানা ব্যবসায়ে গোপনীয়তা সবচেয়ে বেশি রক্ষা পায়। এ ব্যবসায়ের মালিক একজনই হওয়ায় ব্যবসায় সম্পর্কিত সব সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও হিসাব তিনি নিজে জানেন। অন্য কারও সাথে সেগুলো ভাগ করতে হয় না, আর আইনগতভাবে হিসাব প্রকাশেরও বাধ্যবাধকতা নেই। তাই ব্যবসায়ের গোপনীয়তা বজায় থাকে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে সুজন ব্যবসায়ে পুঁজি বিনিয়োগ করেছে এবং মুনাফা পায়, কিন্তু বিদেশে থাকায় ব্যবসায়ের কোনো কাজে অংশ নেয় না। এমন অংশীদারকে ঘুমন্ত অংশীদার (Sleeping Partner) বলে।

    ঘুমন্ত অংশীদার শুধু মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং লাভ-লোকসানের অংশ গ্রহণ করেন, কিন্তু ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন না। সুজনের বৈশিষ্ট্যের সাথে এটি মিলে যায়, তাই সে ঘুমন্ত অংশীদার।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের অংশীদারি ব্যবসায়টি তিন বছরের জন্য গঠিত হয়েছিল এবং সময় শেষে একজন অংশীদার সুমন মারা যান। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিলোপসাধন হয়। এই বিলোপসাধন যুক্তিসংগত।

    ১. নির্দিষ্ট সময় শেষ: ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী চুক্তিতে নির্ধারিত সময় শেষ হলে ব্যবসায়ের বিলোপসাধন হতে পারে। উদ্দীপকে তিন বছর পার হয়ে গেছে।
    ২. অংশীদারের মৃত্যু: একই ধারা অনুযায়ী কোনো অংশীদারের মৃত্যু হলেও বিলোপসাধন হতে পারে। সুমনের মৃত্যুর ফলে তা ঘটেছে।
    ৩. চুক্তির ভিত্তি: অংশীদারি ব্যবসায় নির্দিষ্ট সময় বা কাজের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাই সময় শেষে বিলোপ স্বাভাবিক।

    সুতরাং, নির্দিষ্ট সময় শেষ ও অংশীদারের মৃত্যু, এ দুই কারণেই প্রতিষ্ঠানটির বিলোপসাধন আইনসম্মত ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন