হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সজীব সাধারণ জীবনযাপন করে। সবসময় ন্যায় পথে চলে। অন্যের কোনো কিছু না বলে নেয় না। সে লোভকে আয়তে রেখে সকল কাজ সমাধা করে। অপরদিকে মানস তাদের গ্রামে রাতের বেলায় পালাগান অনুষ্ঠান দেখছিল। পালাগানে সে দেখল ভাইয়ে ভাইয়ে ভয়বহ যুদ্ধ হচ্ছে। যারা অন্যায়ভাবে অপরের বস্তু কেড়ে নিতে চায় ঈশ্বর তাদের ক্ষমা করেন না। তাই এ যুদ্ধ ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুদ্ধ।
- ক)(1)
বৈদিক ধর্ম কাকে বলে?
- খ)(2)
কেন রাজা রাম স্ত্রীকে ত্যাগ করতে দ্বিধা করেননি? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সজীবের কাজগুলো ধর্মের কোন লক্ষণের পর্যায়ে পড়ে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনে মানসের রাতে দেখা পালাগানটির শিক্ষার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বেদকে কেন্দ্র করে বৈদিক যুগে আর্যদের যে ধর্মচর্চা (যাগযজ্ঞ, স্তব-স্তুতি ও প্রার্থনা) প্রচলিত ছিল, তাকে বৈদিক ধর্ম বলে।
- খ)
রাজা রাম আদর্শ রাজা ছিলেন। তাঁর রাজত্বে কোনো প্রজা যেন দুঃখ না পায়, এ বিষয়ে তিনি সর্বদা সচেষ্ট থাকতেন। তিনি স্ত্রী সীতাকে ভালোবাসতেন, তবু প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্য সীতাকে ত্যাগ করতেও দ্বিধা করেননি। ব্যক্তিগত সুখের চেয়ে রাজধর্ম ও প্রজার কল্যাণকে তিনি বড় মনে করেছিলেন। এতে রাজার কর্তব্য সম্বন্ধে আমরা শিক্ষা পাই।
- গ)
সজীবের কাজগুলো ধর্মের দশটি লক্ষণের (মনুসংহিতায় বর্ণিত ধর্মলক্ষণ) পর্যায়ে পড়ে।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে ধর্মের লক্ষণ: মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, 'ধৃতিঃ ক্ষমা দমোস্তেয়ং শৌচমিন্দ্রিয়-নিগ্রহঃ। ধীর্বিদ্যা সত্যমক্রোধো দশকং ধর্মলক্ষণম্।' অর্থাৎ ধৃতি (সহিষ্ণুতা), ক্ষমা, দম (সংযম), অস্তেয় (চুরি না করা), শৌচ (শুচিতা), ইন্দ্রিয়নিগ্রহ, ধী (শুদ্ধ বুদ্ধি), বিদ্যা, সত্য ও অক্রোধ—এই দশটি গুণের মধ্য দিয়ে ধর্মের স্বরূপ প্রকাশ পায়। যিনি এগুলো জীবনে অনুসরণ করেন, তিনিই ধার্মিক।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে সজীব সাধারণ জীবনযাপন করে এবং সবসময় ন্যায় ও সত্যের পথে চলে। এটি ধর্মের 'সত্য' লক্ষণের প্রকাশ। সে অন্যের কোনো কিছু না বলে নেয় না, অর্থাৎ চুরি থেকে বিরত থাকে। এটি 'অস্তেয়' লক্ষণের সঙ্গে মেলে। আবার সে লোভকে আয়ত্তে রেখে সব কাজ করে, যা 'দম' ও 'ইন্দ্রিয়নিগ্রহ' লক্ষণের পরিচায়ক, কারণ লোভ দমন করা ইন্দ্রিয় ও মনকে সংযত রাখারই অংশ।
সুতরাং, সজীবের কাজগুলো ধর্মের দশ লক্ষণের মধ্যে সত্য, অস্তেয়, দম ও ইন্দ্রিয়নিগ্রহের পর্যায়ে পড়ে।
- ঘ)
মানসের রাতে দেখা পালাগানটি মহাভারতের কৌরব-পাণ্ডবের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কাহিনি, যেখানে ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ এবং অন্যায়ভাবে অন্যের বস্তু কেড়ে নিতে চাওয়ার পরিণতি দেখানো হয়েছে। মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনে এর শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে: মহাভারত কৌরব ও পাণ্ডবদের যুদ্ধের কাহিনি। এ যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে 'যথা ধর্ম তথা জয়'। যারা অধর্ম ও অন্যায়ভাবে অপরের বস্তু কেড়ে নিতে চায়, ভগবান তাদের ক্ষমা করেন না। উদ্দীপকের পালাগানেও একই কথা বলা হয়েছে।
১. ন্যায় ও সত্যের জয়ের শিক্ষা: মহাভারতে দুর্যোধনের সকল চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে, পাণ্ডবরা তাঁদের হৃতরাজ্য ফিরে পেয়েছেন। এতে শিক্ষা মেলে, সাময়িক ক্ষমতা ও দম্ভ টেকে না; শেষ পর্যন্ত ধর্ম ও সত্যেরই জয় হয়। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎ পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
২. লোভ ও স্বার্থের কুফল: কুরু-পাণ্ডবের দ্বন্দ্বের মূলে ছিল স্বার্থের দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার দম্ভ এবং অন্যকে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা। এ থেকে আমরা শিখি, লোভ ও অন্যায় আচরণ পরিবার ও সমাজের ধ্বংস ডেকে আনে।
৩. পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি: ভ্রাতৃবিরোধ কত ভয়ংকর হতে পারে তা দেখে মানুষ ভাইয়ে ভাইয়ে মিলেমিশে থাকা, ছোট-বড় সবার প্রতি দায়িত্ব পালন ও সহনশীলতার মূল্য বোঝে। এতে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা পায়।
৪. কর্তব্যবোধ ও মানবিকতা: মহাভারতে রাজার কর্তব্য, প্রজাপালন, অতিথি সেবা ও জনসেবার কথা আছে। এসব শিক্ষা মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে।সুতরাং, মানসের দেখা পালাগানের শিক্ষা সজীবের মতো সৎ, সংযমী ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ হতে শেখায় এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও