বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
ছক-১ | ছক-২
মহাসামন্ত | চালুক্য রাজকন্যাকে বিয়ে
কর্ণসুবর্ণ | ত্রিবেণীতে শেষ জীবন ব্যয়
৬ষ্ঠ শতকের শেষাংশে ক্ষমতারোহণ | অন্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা
- ক)(1)
দেব বংশের রাজারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
- খ)(2)
মাৎস্যন্যায় ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ছক-১ নির্দেশিত ব্যস্তির রাজ্য বিস্তার ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-২ নির্দেশিত ব্যক্তি শুধু একজন দক্ষ শাসকই নন, যথেষ্ট পান্ডিত্যের অধিকারীও ছিলেন- উত্তরের সপক্ষে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
দেব বংশের রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- খ)
মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ মাছের মতো অন্যায় অর্থাৎ বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় কোনো শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসক ছিল না। তখন সবল ব্যক্তিরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার ও লুটতরাজ চালাত। এই চরম অরাজকতাকেই ইতিহাসে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- গ)
ছক-১ নির্দেশিত ব্যক্তি গৌড়ের শাসক শশাঙ্ক। তিনি প্রথমে গুপ্ত রাজাদের মহাসামন্ত ছিলেন এবং ষষ্ঠ শতকের শেষভাগে স্বাধীনভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে কর্ণসুবর্ণকে রাজধানী করেন।
১. গৌড় ও আশপাশ: তিনি গৌড় অঞ্চলে শক্তিশালী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
২. উড়িষ্যা অঞ্চল: তিনি দণ্ডভুক্তি, উৎকল ও কঙ্গোদ জয় করে রাজ্যসীমা বাড়ান।
৩. মগধ: মগধ পর্যন্ত তাঁর আধিপত্য বিস্তৃত হয়েছিল।এভাবে শশাঙ্ক বাংলায় প্রথম স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঘ)
ছক-২ নির্দেশিত ব্যক্তি সেন বংশের বল্লাল সেন। তিনি চালুক্য রাজকন্যা রামদেবীকে বিয়ে করেছিলেন এবং জীবনের শেষ সময় ত্রিবেণীতে কাটিয়েছিলেন। মন্তব্যটি যথার্থ।
১. দক্ষ শাসক: তিনি পিতা বিজয় সেনের রাজ্য সুসংহত করেন এবং সমাজ ও প্রশাসন সুশৃঙ্খল রাখার চেষ্টা করেন।
২. পণ্ডিত ও গ্রন্থকার: তিনি দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। অদ্ভুতসাগর তাঁর জীবদ্দশায় শেষ করে যেতে পারেননি, পুত্র লক্ষ্মণ সেন তা সম্পূর্ণ করেন।
৩. বিদ্যাচর্চার পৃষ্ঠপোষক: তিনি জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেছেন।সুতরাং, বল্লাল সেন শুধু দক্ষ শাসকই নন, যথেষ্ট পাণ্ডিত্যের অধিকারীও ছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও