ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন
মাহিম তার জমানো টাকা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে চান। এক্ষেত্রে তার বন্ধু কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত বিভিন্ন বিনিয়োগ হাতিয়ারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা-অসুবিধা সম্বন্ধে তাকে অবহিত করেন। মাহিম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লাভ কম হলেও লোকসানের তেমন ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তিনি জামানত গ্রহণসাপেক্ষে বিনিয়োগ করেন। নির্দিষ্ট সময় পর অধিক লাভবান হওয়ার আশায় তার বিনিয়োগটিকে অন্য একটি বিনিয়োগ খাতে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
কোন বাজারে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা করে?
- খ)(2)
কোন ধরনের লভ্যাংশ প্রদানে কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব মাহিম কোন খাতে বিনিয়োগ করেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মাহিমের গৃহীত সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
দ্বিতীয় স্তরের বাজার বা সেকেন্ডারি মার্কেটে (স্টক এক্সচেঞ্জে) বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা করে।
- খ)
বোনাস লভ্যাংশ (শেয়ার লভ্যাংশ) প্রদানে কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি নগদ অর্থ না দিয়ে শেয়ারমালিকদের তাদের ধারণকৃত শেয়ারের অনুপাতে নতুন শেয়ার প্রদান করে। এতে কোম্পানির নগদ অর্থ বের হয় না, কিন্তু মোট শেয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। যেমন, প্রতি ১০টি শেয়ারে ১টি বোনাস শেয়ার দিলে ১০০ শেয়ার থেকে ১১০ শেয়ার হয়।
- গ)
জনাব মাহিম ঋণপত্র (ডিবেঞ্চার) খাতে বিনিয়োগ করেছেন।
ঋণপত্র হলো কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের একটি দলিল, যার ধারক কোম্পানির পাওনাদার এবং কোম্পানি তাকে নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করে। উদ্দীপকে মাহিম লাভ কম হলেও ঝুঁকি নিতে চান না এবং জামানত গ্রহণসাপেক্ষে বিনিয়োগ করেন। জামানতযুক্ত (সুরক্ষিত) ঋণপত্রে সুদের হার নির্দিষ্ট ও ঝুঁকি কম থাকে এবং কোম্পানি বন্ধ হলে শেয়ারমালিকদের আগে ঋণপত্রধারীর পাওনা পরিশোধ করা হয়। তাই মাহিমের বিনিয়োগের ক্ষেত্র ঋণপত্র।
- ঘ)
মাহিম প্রথমে নিরাপদ ঋণপত্রে বিনিয়োগ করেছেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা অন্য খাতে (শেয়ারে) রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত যৌক্তিক কি না তা নিচে মূল্যায়ন করা হলো।
১. নিরাপত্তা: শুরুতে জামানতযুক্ত ঋণপত্রে বিনিয়োগের কারণে নির্দিষ্ট সুদ পাওয়া যায় এবং মূলধন হারানোর ঝুঁকি কম থাকে, যা তাঁর ঝুঁকি-বিমুখ মনোভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ।
২. অধিক মুনাফার সুযোগ: শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লভ্যাংশ ও শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি থেকে ঋণপত্রের সুদের চেয়ে বেশি আয়ের সম্ভাবনা থাকে।
৩. ঝুঁকির পরিবর্তন: তবে শেয়ারের মূল্য ওঠানামা করে এবং কোম্পানির লোকসান হলে লভ্যাংশ নাও পাওয়া যেতে পারে, তাই রূপান্তরের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।সুতরাং, নিরাপদ বিনিয়োগ দিয়ে শুরু করে পরে সুবিবেচনার সাথে অধিক লাভজনক খাতে রূপান্তরের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক, তবে ঝুঁকি যাচাই করে তা বাস্তবায়ন করা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও