ইসলাম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

আকবর আলী সবসময় ইসলামের কথাবার্তা বলে থাকেন। কিন্তু তিনি সময়মতো সালাত আদায় করেন না এবং প্রতিবেশীরা গৃহস্থালির জিনিসপত্র ধার চাইলে তা দিতে চাননা। অপর দিকে নোমান মিয়া একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। শত কষ্টের মাঝেও সে সময় পেলেই আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়। সে বিশ্বাস করে "কষ্টের সাথে অবশ্যই স্বস্তি আছে"।

  1. ক)

    হজ কী?

    (1)
  2. খ)

    "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই পারিশ্রমিক দিয়ে দাও"। ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আকবর আলীর কর্মকাণ্ড যে সূরার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তার শিক্ষা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নোমান মিয়ার কর্মকান্ডে কোন সূরার শিক্ষা ফুটে উঠেছে? তা চিহ্নিত করে এর শিক্ষা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হজ হলো সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনে একবার নির্দিষ্ট সময়ে (যিলহজ মাসে) নির্দিষ্ট স্থানসমূহে নির্দিষ্ট কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে কাবা শরীফ যিয়ারত করা।

  2. খ)

    এ হাদিসে রাসূল (স) শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। শ্রমিক কায়িক পরিশ্রম করে, তাই কাজ শেষ হওয়ামাত্র তার মজুরি দেওয়া মালিকের দায়িত্ব।
    মজুরি আটকে রাখা বা দেরি করা জুলুম। শ্রমিক এতে পরিবার নিয়ে কষ্টে পড়ে। সময়মতো মজুরি দিলে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক মজবুত হয় এবং সমাজে শান্তি বজায় থাকে।

  3. গ)

    আকবর আলীর কর্মকাণ্ড সূরা আল-মাউনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    তিনি ইসলামের কথা বলেন, কিন্তু সময়মতো সালাত আদায় করেন না এবং প্রতিবেশীকে গৃহস্থালির সামান্য জিনিসও (মাউন) দিতে চান না। সূরা আল-মাউনে এমন লোকদের নিন্দা করা হয়েছে, যারা কিয়ামত দিবসকে মিথ্যা বলে, ইয়াতিমকে ধাক্কা দেয়, অভাবীকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না, নামাযে উদাসীন এবং লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করে ও ছোটখাটো সাহায্য দিতে বিরত থাকে। শিক্ষা: সালাত যথাসময়ে ও আন্তরিকতার সাথে আদায় করতে হবে এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।

  4. ঘ)

    নোমান মিয়ার কর্মকাণ্ডে সূরা আল-ইনশিরাহের শিক্ষা ফুটে উঠেছে। তিনি নিম্ন আয়ের মানুষ হয়েও কষ্টে ধৈর্য ধরেন, আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকেন এবং বিশ্বাস করেন কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে, যা এ সূরার মূল বাণী।

    সূরার শিক্ষা:
    ১. কষ্টের পরে স্বস্তি: আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।" তাই বিপদে হতাশ হওয়া উচিত নয়।
    ২. আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ: আল্লাহ রাসূলের বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, বোঝা হালকা করেছেন ও মর্যাদা উঁচু করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ বান্দার পাশে থাকেন।
    ৩. ইবাদত ও ভরসা: কাজ শেষে ইবাদতে মনোযোগী হতে এবং একমাত্র আল্লাহর প্রতি আগ্রহী হতে বলা হয়েছে।

    সুতরাং, এ সূরার শিক্ষায় মানুষ ধৈর্য, আশা ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতা শেখে, নোমান মিয়া যার বাস্তব উদাহরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন