ব্যবসায় উদ্যোগ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

গার্মেন্টস শিল্পে বিভিন্ন ধরনের কাগজের প্যাকেটের চাহিদা থাকায় পনির 'আলোকিত প্যাকেজিং' নামে একটি কারখানা স্থাপন করেন। তার এ শিল্পে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা যায় এবং শ্রমিকের সর্বনিম্ন সংখ্যা ১০০। কারখানা শুরুর দিকে বেশ মুনাফা হলেও দেশি-বিদেশি প্রতিযোগিতা, রাস্তা-ঘাটের অনুন্নত অবস্থার কারণে মুনাফা কমতে থাকে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ শিল্পের অবদান বৃদ্ধি পেলেও পনির তার কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

  1. ক)

    উৎপাদনমুখী বৃহৎ শিল্পে সর্বনিম্ন বিনিয়োগের পরিমাণ কত?

    (1)
  2. খ)

    প্রত্যক্ষ সেবা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বিনিয়োগের মাপকাঠিতে পনিরের কারখানা স্থাপন কোন শিল্পের মধ্যে পড়ে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আলোকিত প্যাকেজিং' এর মতো শিল্পের বিকাশে করণীয় সম্পর্কে সুচিন্তিত মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    উৎপাদনমুখী বৃহৎ শিল্পে জমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী সম্পদের সর্বনিম্ন বিনিয়োগ ৫০ কোটি টাকার অধিক।

  2. খ)

    অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবী অর্থের বিনিময়ে যে সেবা প্রদান করেন, তাকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে। যেমন: ডাক্তারি ক্লিনিক, আইন চেম্বার, অডিট ফার্ম। এটি আধুনিক ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।

  3. গ)

    বিনিয়োগের মাপকাঠিতে পনিরের কারখানা মাঝারি শিল্পের মধ্যে পড়ে।

    ১. মাঝারি শিল্প: উৎপাদনমুখী শিল্পে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে এবং শ্রমিক ১২১–৩০০ জন হলে তা মাঝারি শিল্প।
    ২. উদ্দীপকের সাথে মিল: পনির কাগজের প্যাকেট তৈরির কারখানায় সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যা এই ১৫–৫০ কোটি টাকার পরিসরে পড়ে। শ্রমিকের সংখ্যাও ১০০ বা তার বেশি।
    ৩. ধরন: কাগজ দিয়ে প্যাকেট তৈরি উৎপাদন শিল্পের অংশ।

    অতএব, পনিরের কারখানা মাঝারি শিল্প।

  4. ঘ)

    'আলোকিত প্যাকেজিং'-এর মতো শিল্পের বিকাশে আমি নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়ার পরামর্শ দিই।

    ১. অবকাঠামো উন্নয়ন: উদ্দীপকে রাস্তাঘাটের অনুন্নত অবস্থার কথা বলা হয়েছে। সড়ক, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ উন্নত করতে হবে, যাতে কাঁচামাল ও পণ্য সহজে আনা-নেওয়া যায়।
    ২. সরকারি সহায়তা: শিল্পবান্ধব নীতি, কর সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সরকার শিল্পকে সহযোগিতা করতে পারে।
    ৩. সহজ ঋণ: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজ শর্তে পুঁজির জোগান নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪. গুণগত মান ও দক্ষতা: দেশি-বিদেশি প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পণ্যের মান বাড়াতে হবে এবং বৈদেশিক বাজারেও গুরুত্ব দিতে হবে।

    সুতরাং, অবকাঠামো, সরকারি সহায়তা, ঋণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এই শিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন