পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দু'দল শিক্ষার্থী দেশের বাহিরে শিক্ষা সফরে বের হন। প্রথম দলটি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন এবং একটি দেশের রাজধানীতে 'ক' নামক একটি আঞ্চলিক সংস্থার সচিবালয় দেখতে পান। অপর দলটি (আটলান্টিকের পশ্চিম তীরের একটি দেশ) ভ্রমণ করতে গিয়ে 'খ' নামক অন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর দেখতে পান। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি স্বাধীন দেশ এই সংস্থার সদস্য। সংস্থাটি বিশ্বে শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে।
- ক)(1)
OIC কখন গঠিত হয়?
- খ)(2)
অছি এলাকা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' নামক সংস্থার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আঞ্চলিক সংস্থার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
বিশ্বশান্তি রক্ষায় 'খ' নামক আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সফলতা, ব্যর্থতা যুক্তিসহ বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
- খ)
জাতিসংঘের অছি পরিষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত যে অঞ্চলের জনগণ নিজেরা শাসনকার্য পরিচালনায় সক্ষম হয়নি, তাকে অছি এলাকা বলে।
দুই বিশ্বযুদ্ধের পর পরাজিত দেশগুলোর উপনিবেশ ও অনগ্রসর অঞ্চলকে ধীরে ধীরে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
- গ)
উদ্দীপকের 'ক' নামক সংস্থার সাথে সার্ক (SAARC, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) এর মিল রয়েছে।
১. অবস্থান ও সচিবালয়: শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের রাজধানীতে সংস্থাটির সচিবালয় দেখেছে। সার্কের সচিবালয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
২. আঞ্চলিক সংস্থা: সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক সংস্থা। ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় এর যাত্রা শুরু হয়।
৩. উদ্দেশ্য: সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এর লক্ষ্য। - ঘ)
'খ' নামক সংস্থাটি জাতিসংঘ (সদর দপ্তর নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে)। বিশ্বশান্তি রক্ষায় এর সফলতা ও ব্যর্থতা দুটিই রয়েছে।
সফলতা:
১. বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে।
২. অছি ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু উপনিবেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করেছে।
৩. ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও ইত্যাদি বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে শিশু, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তায় কাজ করেছে।ব্যর্থতা:
১. নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতার কারণে অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।
২. ফিলিস্তিন সংকটের মতো বিরোধ দীর্ঘদিনেও পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি।
৩. বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রভাব থাকায় জাতিসংঘ অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেনি।সুতরাং, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও