ভূগোল এবং পরিবেশ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: শামীমের শহরটি ২০° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭০০ পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত। তার বন্ধু সোহেলের শহরটি ২০° দক্ষিণ অংক্ষাংশ এবং ১১০০ পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত।দৃশ্যকল্প-২: শফিক একটি মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করল, যেখানে তার গ্রামের সকল জমির মালিকের জমির সীমানা দেখানো আছে। অন্যদিকে জাহিন একটি মানচিত্র দেখল য়েটিতে জমির সীমানা নেই তবে পাহাড়-পর্বত, নদী, ধর্মীয় উপাসনালয়, বাজার প্রভৃতি দেখানো হয়েছে।

  1. ক)

    শিরোনাম কী?

    (1)
  2. খ)

    ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে কী বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    শামীমের ও সোহেলের শহরের মধ্যে সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করো

    (3)
  4. ঘ)

    শফিক ও জাহিনের পর্যবেক্ষণকৃত মানচিত্র দুটির মধ্যে কোনটি ভূমিকর আদায় ব্যবহৃত হয়? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রত্যেক মানচিত্রে একটি শিরোনাম থাকে, যা থেকে বোঝা যায় মানচিত্রটি কোনো দেশ বা অঞ্চলের কিসের মানচিত্র। যেমন- বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র।

  2. খ)

    ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে জিআইএস (GIS) বা ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (Geographic Information System) বলা হয়।
    এটি কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনো স্থানের ভৌগোলিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও মানচিত্রে উপস্থাপন করা যায়। ভূমি ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যবহৃত হয়।

  3. গ)

    শামীমের শহর ৭০° পশ্চিম দ্রাঘিমায় এবং সোহেলের শহর ১১০° পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত। (প্রশ্নে '৭০০' ও '১১০০' ডিগ্রি চিহ্নের জায়গায় লেখা হয়েছে, তাই ৭০° ও ১১০° ধরা হলো।)

    দুই শহর বিপরীত গোলার্ধে (পূর্ব ও পশ্চিমে) অবস্থিত, তাই দ্রাঘিমার পার্থক্য = 70°+110°=180°70° + 110° = 180°

    প্রতি 1°1° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট।

    সময়ের পার্থক্য = 180×4=720180 \times 4 = 720 মিনিট = 72060=12\dfrac{720}{60} = 12 ঘণ্টা

    সুতরাং, দুই শহরের সময়ের পার্থক্য ১২ ঘণ্টা। সোহেলের শহর পূর্বে অবস্থিত, তাই সেখানকার সময় শামীমের শহরের চেয়ে ১২ ঘণ্টা এগিয়ে।

  4. ঘ)

    ভূমিকর আদায়ে ব্যবহৃত হয় শফিকের পর্যবেক্ষণ করা মানচিত্রটি। এটি ক্যাডাস্ট্রাল বা মৌজা মানচিত্র।

    ১. সীমানা নির্দেশ: শফিকের মানচিত্রে গ্রামের সব জমির মালিকের জমির সীমানা দেখানো আছে। ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র রেজিস্ট্রিকৃত ভূমি বা ভবনের মালিকানার সীমানা চিহ্নিত করার জন্যই তৈরি হয়।
    ২. কর নির্ধারণ: এই মানচিত্র দেখে হিসাব করে সরকার ভূমির মালিকের কাছ থেকে কর আদায় করে। কার জমি কতটুকু, তা মানচিত্র থেকে স্পষ্ট জানা যায়।
    ৩. জাহিনের মানচিত্রের সীমাবদ্ধতা: জাহিনের মানচিত্রে পাহাড়, নদী, উপাসনালয়, বাজার দেখানো আছে, কিন্তু জমির সীমানা নেই। এটি ভূসংস্থানিক বা স্থানীয় বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র। এর মাধ্যমে মালিকানা নির্ধারণ বা কর আদায় সম্ভব নয়।

    সুতরাং, ভূমিকর আদায়ে শফিকের ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্রটিই ব্যবহৃত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন