বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

1.1.

(ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান

1.2.

(খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার

1.3.

(গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

উত্তর ও ব্যাখ্যা

(ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান

ভূমিকা
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি। আগে কৃষকরা প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করত। বর্তমানে বিজ্ঞানের আশীর্বাদে কৃষিকাজে এসেছে বিপ্লব। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কৃষিতে বিজ্ঞানের ব্যবহার অপরিহার্য।

সনাতন কৃষি ও আধুনিক কৃষি
সনাতন পদ্ধতিতে লাঙল, গরু ও প্রাকৃতিক বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে চাষ হতো। ফলন কম হতো, সময় বেশি লাগত। আধুনিক কৃষিতে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, সেচযন্ত্র ও উন্নত বীজ ব্যবহার করে অল্প সময়ে অধিক ফসল ফলানো যায়।

কৃষিতে বিজ্ঞানের প্রয়োগ
১. উন্নত বীজ: গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল (উফশী) ধান, গম, ভুট্টা ও সবজির বীজ উদ্ভাবিত হয়েছে। লবণসহিষ্ণু ও বন্যাসহিষ্ণু জাতও তৈরি হয়েছে।
২. সার ও কীটনাশক: রাসায়নিক ও জৈব সার জমির উর্বরতা বাড়ায়। কীটনাশক ফসলকে পোকামাকড় ও রোগ থেকে রক্ষা করে।
৩. সেচ ব্যবস্থা: গভীর ও অগভীর নলকূপ এবং পাম্পের মাধ্যমে শুকনো মৌসুমেও চাষ সম্ভব হয়েছে।
৪. যন্ত্রপাতি: ট্রাক্টর, হার্ভেস্টার, থ্রেশারের ব্যবহারে শ্রম ও সময় বাঁচে।
৫. আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আবহাওয়া ও বন্যার আগাম বার্তা পেয়ে কৃষক ক্ষতি এড়াতে পারে।

সুফল
বিজ্ঞানের ব্যবহারে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, কৃষকের আয় বেড়েছে এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়েছে।

সমস্যা ও করণীয়
অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাই জৈব সার ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করতে হবে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং কম সুদে ঋণ ও ন্যায্য মূল্যে উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।

উপসংহার
কৃষিই আমাদের বাঁচার অবলম্বন। সুতরাং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আমরা খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। পরিবেশ রক্ষা করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারই হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন