কৃষিশিক্ষা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
রিয়া পারিবারিকভাবে মুরগি পালনের জন্য ৫০টি বাচ্চা ক্রয় করে খামার তৈরি করে। প্রতিবেশী অভিজ্ঞ খামারি স্বপন সাহা রিয়াকে পরামর্শ দেয় যে, বাচ্চাগুলো যখন মাঝারি এবং ডিমপাড়া পর্যায়ে আসবে তখন শর্করা উপাদান সামান্য কমিয়ে খাদ্য তালিকায় অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের শতকরা হার বাড়াতে হবে, তা না হলে ডিম উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- ক)(1)
মুরগি খামার পরিচালনায় কোন খাতে খরচ বেশি হয়?
- খ)(2)
দ্রুত মুনাফা পেতে কোন ধরনের মুরগির খামার করা উত্তম? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রিয়ার মুরগির বাচ্চাগুলো ডিমপাড়া পর্যায়ে আসলে প্রতি সপ্তাহে কী পরিমাণ খাদ্য প্রয়োজন হবে তা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
খামারি স্বপন সাহার পরামর্শ লেয়ার মুরগি পালনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে কিনা তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মুরগির খামার পরিচালনায় খাদ্য খাতে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়।
- খ)
দ্রুত মুনাফা পেতে ব্রয়লার মুরগির খামার করা উত্তম। ব্রয়লার মুরগি খুব দ্রুত বাড়ে এবং ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে বিক্রয়যোগ্য হয়। এতে অল্প সময়ে মূলধন ফেরত আসে এবং বছরে কয়েকবার চাষ করা যায়। তাই এতে মুনাফা দ্রুত পাওয়া যায়।
- গ)
রিয়ার ৫০টি বাচ্চা ডিমপাড়া পর্যায়ে লেয়ার মুরগি হিসেবে খাদ্য খাবে। প্রতিটি ডিমপাড়া মুরগির দৈনিক খাদ্যের প্রয়োজন প্রায় ১১০-১২০ গ্রাম।
ন্যূনতম ১১০ গ্রাম ধরলে:
দৈনিক খাদ্য গ্রাম কেজি
সাপ্তাহিক খাদ্য কেজি
১২০ গ্রাম ধরলে সাপ্তাহিক খাদ্য গ্রাম কেজি।
অতএব, সাপ্তাহিক প্রায় ৩৮.৫ থেকে ৪২ কেজি খাদ্যের প্রয়োজন হবে।
- ঘ)
স্বপন সাহার পরামর্শ লেয়ার মুরগি পালনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষণ:
১. খাদ্যে শর্করা কমিয়ে যে উপাদানের হার বাড়াতে বলা হয়েছে, তা হলো আমিষ (প্রোটিন) (সঙ্গে খনিজ ক্যালসিয়ামও প্রয়োজন)।
২. ডিমপাড়া পর্যায়ে মুরগিকে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন করতে হয়। ডিমের সাদা ও কুসুম তৈরির জন্য পর্যাপ্ত আমিষ দরকার।
৩. শর্করা বেশি হলে মুরগি মোটা হয়ে যায় এবং ডিম উৎপাদন কমে যায়।
৪. আমিষ ও ক্যালসিয়াম কম হলে ডিমের আকার ছোট হয়, খোসা পাতলা হয় এবং উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।সুতরাং, ডিম উৎপাদন ঠিক রাখতে স্বপন সাহার পরামর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও