অর্থনীতি • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

অর্থনীতি প্রশ্ন

সালমান সাহেব একটি পোশাক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত করোনা মহামারির কারণে তার চাকরি চলে যায়। এ কারণে তিনি স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের নিয়ে গ্রামে চলে আসেন এবং কিছু দিন কর্মহীন অবস্থায় থাকার পর স্থানীয় বাজারে একটি ব্যবসা শুরু করেন। অপরদিকে হামিদা বেগম এস,এস,সি পাস করার পর বেকার বসে না থেকে তার শিক্ষকের পরামর্শে যুব উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান থেকে হস্তশিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বাড়িতে হস্তশিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন এবং উৎপাদিত দ্রব্য বাজারে বিক্রম করে বেশ আর করছেন।

  1. ক)

    বেকারত্ব কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সালমান সাহেবের কর্মহীন অবস্থাকে অর্থনীতিতে কোন ধরনের বেকারত্বর নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "হামিদা বেগমের মতো নারীদের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখছে।"— উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কর্মক্ষম ও কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ খুঁজেও না পেলে সেই অবস্থাকে বেকারত্ব (Unemployment) বলে।

  2. খ)

    অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়। এর ফলে মাথাপিছু আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। এটি শুধু প্রবৃদ্ধির চেয়ে ব্যাপক ধারণা।

  3. গ)

    সালমান সাহেব পোশাক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। করোনা মহামারির কারণে চাকরি হারিয়ে তিনি কিছু দিন কর্মহীন ছিলেন। এটি চক্রাকার বেকারত্বকে নির্দেশ করে।

    ১. অর্থনৈতিক মন্দা বা সংকটের কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদা কমলে প্রতিষ্ঠান শ্রমিক ছাঁটাই করে। এখানে মহামারির কারণে পোশাক শিল্পে কার্যক্রম কমে যাওয়ায় সালমানের চাকরি যায়।
    ২. পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ ধরনের বেকারত্ব দূর হয়। সালমান সাহেব সাময়িকভাবে কর্মহীন ছিলেন এবং পরে ব্যবসা শুরু করেন।

    সুতরাং, সালমান সাহেবের কর্মহীন অবস্থা চক্রাকার বেকারত্বকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    উক্তিটি যথার্থ। হামিদা বেগম প্রশিক্ষণ নিয়ে ঋণের মাধ্যমে হস্তশিল্প কারখানা গড়েছেন। তার মতো নারীদের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে।

    ১. আত্মকর্মসংস্থান: হামিদা বেকার না থেকে নিজের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন, ফলে বেকারত্ব কমছে এবং অন্যদেরও কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
    ২. উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি: তার উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি হওয়ায় দেশের মোট উৎপাদন ও আয় বাড়ে এবং জাতীয় আয়ে অবদান রাখে।
    ৩. নারীর ক্ষমতায়ন: প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধা পেয়ে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে, যা পরিবার ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
    ৪. মূলধন গঠন: তার আয় থেকে সঞ্চয় ও পুনর্বিনিয়োগ হলে মূলধন গঠন বাড়ে।

    সুতরাং, হামিদা বেগমের মতো নারীদের কর্মকাণ্ড অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখছে, উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন