ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ইসলাম প্রশ্ন

বিনা অনুমতিতে একটি পাউরুটি খাওয়ার অপরাধে এক কনফেকশনারির মালিকপুত্র কর্মচারী রবিনকে খুঁটির সাথে বেঁধে দশটি বেত্রাঘাত করে। আদর্শবান-ইমানদার যুবক মুঈন রুটির মূল্য বাবদ ত্রিশ টাকা দিয়ে তাকে মুক্ত করে এবং উপস্থিত জনতাকে বলে, একজন মুমিন কখনো পশুর মতো আচরণ করতে পারে না। অপরদিকে মুদি দোকানের কর্মচারী আদিন মাঝে মধ্যে নামায পড়লেও প্রতিদিন ক্যাশ বাক্স থেকে একশত টাকা করে আত্মসাৎ করে। দোকান মালিক এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মুফতি ফরহাদ বলেন, তার কাজটি সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনন্ত জীবনে তাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।

  1. ক)

    আসমানি কিতাব কী?

    (1)
  2. খ)

    'ক্ষণস্থায়ী জীবনের চাষাবাদ অনুযায়ী জীবনে সকল ফল ভোগ করবে'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আদর্শ যুবক মুঈনের সহমর্মিতায় ইসলামের কোন বিষয়টি বিকাশ লাভ করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আদিনের কর্মটি চিহ্নিতপূর্বক মুফতি ফরহাদের মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য নবি-রাসুলগণের প্রতি ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে যে ঐশী গ্রন্থ নাজিল করেছেন, তাকে আসমানি কিতাব বলে।

  2. খ)

    উক্তিটির মূল ভাব হলো, দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। কৃষক যেমন জমিতে যা বপন করে, ফসল হিসেবে তাই পায়, তেমনি মানুষ দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে যেমন কাজ করবে, আখিরাতে তেমনই ফল ভোগ করবে।

    দুনিয়ায় সৎকাজ করলে আখিরাতে জান্নাতের নিয়ামত পাওয়া যাবে এবং অসৎকাজ করলে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাই দুনিয়ার জীবনকে সৎকর্মে কাজে লাগানো উচিত।

  3. গ)

    মুঈন কর্মচারী রবিনের প্রতি অন্যায় নির্যাতন দেখে তার পক্ষ থেকে রুটির মূল্য পরিশোধ করে তাকে মুক্ত করেছে। এতে আখলাকে হামিদাহ-এর দয়া, সহমর্মিতা ও মানবতাবোধ বিকাশ লাভ করেছে।

    ব্যাখ্যা: ইসলামে আখলাকে হামিদাহ হলো প্রশংসনীয় চরিত্র। এর মধ্যে অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দয়া ও সহানুভূতি দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। মহানবি (সা.) বলেছেন, যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না। মুঈন তার কাজ ও কথার মাধ্যমে একজন প্রকৃত মুমিনের এই গুণ প্রকাশ করেছে।

  4. ঘ)

    আদিন মাঝে মধ্যে নামায পড়লেও প্রতিদিন মালিকের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা আত্মসাৎ করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে তা অস্বীকার করে। তার এই কর্মটি খিয়ানত (আমানতের খেয়ানত) এবং সঙ্গে মিথ্যা বলা, যা আখলাকে যামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত।

    মুফতি ফরহাদের মন্তব্যের বিশ্লেষণ:
    ১. সামাজিক ক্ষতি: খিয়ানত মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট করে এবং অর্থনৈতিক লেনদেনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তাই কাজটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
    ২. ইসলামের বিধান: অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা হারাম। হাদিসে খিয়ানতকে মুনাফিকের আলামত বলা হয়েছে।
    ৩. পরকালীন পরিণতি: তাওবা না করলে এই পাপের জন্য আখিরাতে জবাবদিহি করতে হবে এবং শাস্তি ভোগ করতে হবে।

    সুতরাং, মুফতি ফরহাদের মন্তব্য ইসলামের শিক্ষার আলোকে যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন