হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

তনয় বাবু উচ্চ পদে চাকরি করছেন। তিনি সংসারের সকল দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক সকল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, বিকাশ বাবু তার ব্যবসায়ী পুত্র ও স্ত্রীকে সংসারের সকল দায়িত্ব দিয়ে সংসারত্যাগী হন। তিনি দেবগৃহে বিভিন্ন ভক্তিমূলক উপাসনার মাধ্যমে দিনাতিপাত করেন।

  1. ক)

    প্রত্যাহার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কীসের মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি প্রেমভাব জাগ্রত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তনয় বাবু আশ্রমের যে স্তরে রয়েছেন তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিকাশ বাবু কি ধর্ম নির্দেশিত পথে হাঁটছেন? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভেতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে প্রত্যাহার বলে।

  2. খ)

    ভক্তির মাধ্যমে, অর্থাৎ ভক্তিযোগের মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি প্রেমভাব জাগ্রত হয়। নারদীয় ভক্তিসূত্র অনুযায়ী ভগবানে ঐকান্তিক প্রেম বা ভালোবাসাকে ভক্তি বলে।

    ভক্তিকে অবলম্বন করে ভগবানের সঙ্গে যোগসূত্র রচনা করাই ভক্তিযোগ। ভক্ত ভগবানের শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করে এবং গভীর বিশ্বাস রাখে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান ও করুণাময়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের তনয় বাবু গার্হস্থ্য আশ্রমে রয়েছেন।

    গার্হস্থ্য আশ্রমের ধারণা: শতবর্ষের জীবনের দ্বিতীয় পঁচিশ বছর গার্হস্থ্য আশ্রম। ব্রহ্মচর্য শেষে বিবাহ করে সংসারধর্ম পালনই এ আশ্রমের কাজ। এখানে সন্তান-সন্ততি লাভ ও তাদের ভরণ-পোষণ, প্রতিদিন পিতৃযজ্ঞ, দেবযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ, নৃযজ্ঞ ও ঋষিযজ্ঞ পালন এবং সমাজের প্রতি কর্তব্য সম্পাদন করতে হয়। কলিযুগে গার্হস্থ্য আশ্রমে থেকে জীবনযাপন করাই উত্তম, কারণ এতে জীবন সার্থক ও কল্যাণময় হয়।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: তনয় বাবু উচ্চ পদে চাকরি করেন, সংসারের সকল দায়িত্ব পালন করেন এবং সামাজিক সকল কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। এই পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনই গার্হস্থ্য আশ্রমের বৈশিষ্ট্য।

    অতএব, তনয় বাবু গার্হস্থ্য আশ্রমের স্তরে অবস্থান করছেন।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, বিকাশ বাবু ধর্ম নির্দেশিত পথেই হাঁটছেন। তিনি বানপ্রস্থ আশ্রমের নিয়ম অনুসরণ করছেন বলে বোঝা যায়, যদিও কলিযুগে এ আশ্রমের পূর্ণ অনুশীলন সীমিত।

    বানপ্রস্থ আশ্রমের ধারণা: তৃতীয় পঁচিশ বছর বানপ্রস্থ আশ্রম। এ পর্যায়ে মানুষ সংসারের দায়-দায়িত্ব সন্তানের ওপর ন্যস্ত করে নির্জন পরিবেশে অবসর জীবনযাপন করে। জীবনচর্চায় সংযম, ত্যাগ ও নির্লোভ আচরণের বিধান থাকে। বর্তমানে বনে না গিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সেবা বা পূজা-অর্চনার মাধ্যমে বৈরাগ্যময় জীবন যাপন করা যায়। ভজন, পূজন, কীর্তন, জপ ও ধ্যান এই স্তরের কাজ।

    ১. দায়িত্ব হস্তান্তর: বিকাশ বাবু ব্যবসায়ী পুত্র ও স্ত্রীকে সংসারের সকল দায়িত্ব দিয়েছেন। বানপ্রস্থে সংসারের দায়িত্ব সন্তানের ওপর ন্যস্ত করার বিধান আছে। তিনি দায়িত্ব এমন ব্যক্তিদের দিয়েছেন যারা তা বহন করতে সক্ষম, তাই এটি দায়িত্ব এড়ানো নয়।

    ২. ভক্তিমূলক উপাসনা: তিনি দেবগৃহে বিভিন্ন ভক্তিমূলক উপাসনার মাধ্যমে দিন কাটান। শাস্ত্র অনুসারে ভজন, পূজন ও কীর্তনের মাধ্যমে বানপ্রস্থের জীবনস্তর কাটানো যায়। ভক্তিযোগও মোক্ষলাভের একটি স্বীকৃত পথ।

    ৩. সংযম ও ত্যাগ: সংসারত্যাগের মাধ্যমে তিনি ভোগাসক্তি কমিয়ে আনছেন, যা বানপ্রস্থের মূল আদর্শ।

    ৪. একটি সতর্কতা: পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, কলিযুগে স্ত্রী-পুত্র-মাতা-পিতাকে পরিত্যাগ করে বানপ্রস্থ বা সন্ন্যাস গ্রহণে উৎসাহিত করা হয় না, গার্হস্থ্য জীবনই শ্রেয়। তবে বিকাশ বাবু পরিবারকে ছেড়ে দেননি, বরং দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন।

    সুতরাং, বিকাশ বাবুর জীবনযাপন বানপ্রস্থ আশ্রমের নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, তাই তিনি ধর্ম নির্দেশিত পথেই হাঁটছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন