বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্য-১: মধ্যযুগে 'ক' নামক একজন সুদক্ষ সেনাপতি এবং দূরদর্শী শাসক ছিলেন। তার শাসনামলে নিজ এলাকা থেকে ইংরেজুদের বিতাড়িত করেন। এছাড়াও তার শাসনকালে বাংলায় দ্রব্যমূল্য খুবই সন্তা ছিল।দৃশ্য-২: পিতার মৃত্যুর পর জনাব 'ক' বাংলার ক্ষমতা লাভ করেন। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকল্পে কাজ করেন। এছাড়াও তিনি নিজে একজন কবি ছিলেন এবং কবি সাহিত্যিকগণকে শ্রদ্ধাও করতেন।
- ক)(1)
' বারোভূঁইয়া' কাদেরকে বলা হয়?
- খ)(2)
বাংলাকে কেন 'বুলগাকপুর' নাম দেওয়া হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্য-১ এ, যে মুঘল সুবাদারকে নির্দেশ করে তিনি ছিলেন একজন সুদক্ষ সেনাপতি ও দূর্বদর্শী শাসক- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-২ যে শাসককে নির্দেশ করে ইলিয়াস শাহি বংশের কোন শাসকের সাথে তার মিল রয়েছে?তিনি একজন সুশাসক ও সাহিত্যে বিশেষ খ্যাতিমান- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মুঘল আমলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীন বা প্রায়-স্বাধীন বারোজন জমিদার বা ভূস্বামীকে বারোভূঁইয়া বলা হয়।
- খ)
বুলগাকপুর শব্দের অর্থ বিদ্রোহের নগরী। দিল্লির সুলতানদের আমলে বাংলার শাসকরা বারবার কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেন এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করতেন। বাংলার ভৌগোলিক দূরত্ব, নদীনালা ও জলবায়ুর কারণে দিল্লির শাসকদের পক্ষে একে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল। এই বিদ্রোহপ্রবণতার কারণেই বাংলাকে বুলগাকপুর নাম দেওয়া হয়।
- গ)
দৃশ্য-১ মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানকে নির্দেশ করে।
শায়েস্তা খান ছিলেন সুদক্ষ সেনাপতি। তিনি পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের দমন করে চট্টগ্রাম জয় করেন এবং ইংরেজ কোম্পানির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন। এসব সামরিক সাফল্য তাঁর সেনাপতিত্বের পরিচয় বহন করে।
তিনি ছিলেন দূরদর্শী শাসক। তাঁর শাসনামলে বাংলায় দ্রব্যমূল্য খুব কম ছিল, টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। শান্তি-শৃঙ্খলা, ঢাকাকে রাজধানীরূপে উন্নত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারও তাঁর দূরদর্শিতার প্রমাণ।
- ঘ)
দৃশ্য-২ ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহকে নির্দেশ করে। পিতা সিকান্দার শাহের মৃত্যুর পর তিনি বাংলার ক্ষমতা লাভ করেন। তিনি একজন সুশাসক ও সাহিত্যে বিশেষ খ্যাতিমান ছিলেন।
১. সুশাসন: তিনি ন্যায়বিচারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। প্রচলিত আছে, কাজীর আদালতে তিনি নিজেও আইনের সামনে সমান ছিলেন। প্রজাদের কল্যাণে তিনি বিভিন্ন ব্যবস্থা নেন।
২. সাহিত্যপ্রীতি: তিনি নিজে কবিতা রচনা করতেন। পারস্যের কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কথা প্রচলিত আছে। কবি ও পণ্ডিতদের তিনি সম্মান করতেন এবং বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
৩. তাঁর আমলে ইউসুফ-জুলেখা রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যে অবদান রাখেন।সুতরাং, তিনি ন্যায়পরায়ণ সুশাসক ও সাহিত্যপ্রেমী শাসক হিসেবে ইলিয়াস শাহি বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতানদের একজন ছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও