বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
জনাব রবিন রসুলপুর ইউনিয়নের একজন যোগ্য চেয়ারম্যান। তার মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরবর্তীতে ইউনিয়নবাসী আমিন সাহেবকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। তিনি অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। তার মৃত্যুর পর হাবীব সাহেব পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি প্রথমে একটি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, তবে পরবর্তীকালে সবকিছু সামলে নেন। তিনি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন এবং অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল ছিলেন।
- ক)(1)
মহাসামন্ত কী?
- খ)(2)
সেনদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয় কেন?
- গ)(3)
রবিনের মৃত্যুর পর যে অরাজকতা সৃষ্টি হয় তা প্রাচীন বাংলায় কী নামে অভিহিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
হাবীব সাহেবের সাথে প্রাচীন বাংলার যে রাজার সাদৃশ্য রয়েছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় স্থানের ক্ষমতাশালী শাসককে মহাসামন্ত বলা হতো।
- খ)
সেন রাজারা ছিলেন দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক থেকে আগত। তাঁরা নিজেদের ব্রাহ্মণ বংশজাত হয়েও ক্ষত্রিয় বৃত্তি বা যুদ্ধ ও রাজ্য শাসনের কাজ গ্রহণকারী বলে পরিচয় দিতেন। এই দুই পরিচয় একসাথে বোঝাতে তাঁদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়। বাংলার ইতিহাসে এই পরিচয়ে তাঁরা শাসক ও সমাজে মর্যাদার দাবিদার ছিলেন।
- গ)
রবিনের মৃত্যুর পর সৃষ্ট অরাজকতা প্রাচীন বাংলায় মাৎস্যন্যায় নামে অভিহিত।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না। হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মণের আক্রমণ চলে এবং ভূস্বামীরা নিজেরা রাজা হওয়ার চেষ্টায় একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই বিশৃঙ্খলাকে ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসনে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়েছে। পুকুরে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, তেমন সবল দুর্বলকে গ্রাস করছিল।
- ঘ)
উদ্দীপকের হাবীব সাহেবের সাথে প্রাচীন বাংলার পাল রাজা ধর্মপালের সাদৃশ্য রয়েছে। গোপালের (আমিন সাহেব) পুত্র ধর্মপাল পিতার যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন, ত্রি-শক্তির সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং ধর্মসহিষ্ণু ছিলেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়—এর কারণ—
১. বিক্রমশীল বিহার: তিনি ভাগলপুরের কাছে বিক্রমশীল মহাবিহার নির্মাণ করেন। এটি নবম থেকে বারো শতক পর্যন্ত ভারতবর্ষের বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল এবং তিব্বতের ভিক্ষুরা এখানে পড়তে আসত।
২. সোমপুর মহাবিহার: নওগাঁর পাহাড়পুরে তিনি সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য।
৩. ওদন্তপুরী বিহার: তিনি ওদন্তপুরীতেও বিহার নির্মাণ করেন। লামা তারনাথের মতে, তিনি বৌদ্ধ ধর্মশিক্ষার জন্য ৫০টি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করেন।সুতরাং, ধর্মপাল শিক্ষা বিস্তারে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা অবিস্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও