গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
শীলা ও মেঘলা দুই বান্ধবী এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে। শীলা বান্ধবীদের সাথে কখনও বেড়াতে যেতে চায় না। সে সব সময় একা থাকতে পছন্দ করে। পরীক্ষার প্রস্তুতিও তার ভালো না। এ নিয়ে বেশিরভাগ সময় তার মন খারাপ থাকে। অপরদিকে মেঘলার পরীক্ষার সময় যতই এগিয়ে আসছে পড়তে বসলেই মনে হয় তার কিছুই শেষ হয়নি। এই চিন্তায় সে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে। পরীক্ষার চিন্তায় তার হাত পা কাঁপে।
- ক)(1)
শাল দুধ কাকে বলে?
- খ)(2)
কাদের আচরণ সংশোধনের জন্য সংশোধনী কেন্দ্রে রাখা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শীলার মধ্যে কোন ধরনের মনোসামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মেঘলার মনোসামাজিক সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সন্তান প্রসবের পর প্রথম দুই-তিন দিন মায়ের স্তন থেকে যে হলদে রঙের ঘন, আঠালো দুধ নিঃসৃত হয়, তাকে শাল দুধ (Colostrum) বলে।
- খ)
আইন ভঙ্গকারী বা অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের (কিশোর অপরাধীদের) আচরণ সংশোধনের জন্য সংশোধনী কেন্দ্রে রাখা হয়।
কিশোর অপরাধীদের সাধারণ অপরাধীদের মতো কারাগারে রাখা হয় না, কারণ এতে তারা আরও খারাপ পথে যেতে পারে। সংশোধনী কেন্দ্রে তাদের শাস্তি নয়, বরং শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সংশোধন করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
- গ)
শীলার মধ্যে বিষণ্নতা (Depression) নামক মনোসামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
শীলা বান্ধবীদের সাথে বেড়াতে যেতে চায় না, সব সময় একা থাকতে পছন্দ করে এবং বেশিরভাগ সময় তার মন খারাপ থাকে। এগুলো সামাজিক সম্পর্ক থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া ও মনের অবসাদের লক্ষণ। পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো না থাকার দুশ্চিন্তাও এর একটি কারণ। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে তার পড়াশোনা ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শীলার সমস্যাটি বিষণ্নতা।
- ঘ)
মেঘলা পরীক্ষার ভয় ও দুশ্চিন্তায় (উদ্বেগ বা Anxiety) ভুগছে। তার খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেওয়া, অস্থিরতা ও হাত-পা কাঁপা এর লক্ষণ। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়গুলো হলো:
১. পরিকল্পিত পড়াশোনা: পরীক্ষার পাঠ্যসূচি ভাগ করে সময়সূচি তৈরি করে নিয়মিত পড়লে "কিছুই শেষ হয়নি" ভাবনা কমে আসবে।
২. স্বাভাবিক জীবনযাপন: পরিমিত খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম ও হালকা ব্যায়াম করলে মন ও শরীর সুস্থ থাকে।
৩. ইতিবাচক চিন্তা: নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখা এবং ভয়কে আত্মবিশ্বাস দিয়ে জয় করার চেষ্টা করা।
৪. আলোচনা ও সহায়তা: বাবা-মা, শিক্ষক বা বিশ্বস্ত বন্ধুর সাথে নিজের দুশ্চিন্তার কথা শেয়ার করা। সমস্যা বেশি হলে মনোবিজ্ঞানী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।সুতরাং, পরিকল্পিত প্রস্তুতি, সুস্থ জীবনযাপন, ইতিবাচক মনোভাব ও প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে মেঘলা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও