ভূগোল এবং পরিবেশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: মুনিয়া বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বেড়াতে গিয়ে দেখল নদীর পানি খুব নোংরা।দৃশ্যকল্প-২: ঢাকা বেড়াতে আসার সময় সাভার পার হবার পরপরই ঝুমুরের চোখ জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গেল।দৃশ্যকল্প-৩; অসিত চাকমা পাহাড় কেটে জমি চাষ করে। ফলশ্রুতিতে পাহাড় ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে।

  1. ক)

    জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে যাবার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-৩-এ উল্লিখিত সমস্যাটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও ২-এ উল্লিখিত সমস্যান্বয়ের সমাধানে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পরিবেশে বসবাসকারী সকল প্রকার জীব (উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব) এবং তাদের মধ্যকার বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলে।

  2. খ)

    রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো বাসস্থান ধ্বংস। সুন্দরবনসহ বন উজাড় হওয়ায় ও জলবায়ু পরিবর্তনে লবণাক্ততা বাড়ায় এদের আবাস সংকুচিত হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ শিকার, খাদ্য (হরিণ, বন্যশূকর) কমে যাওয়া এবং মানুষ ও বাঘের সংঘাতও বাঘের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-৩-এ অসিত চাকমা পাহাড় কেটে চাষ করায় পাহাড় ক্ষয়ে যাচ্ছে। সমস্যাটি পাহাড় কাটা ও ভূমিক্ষয়।

    ১. পাহাড়ের বন ও গাছপালা কেটে ফেলায় মাটি আলগা হয়ে যায়, কারণ গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখে।
    ২. বৃষ্টির পানি আলগা মাটি ধুয়ে নিয়ে যায়, ফলে ভূমিক্ষয় হয় এবং পাহাড় ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়।
    ৩. ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে, জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয় এবং নদী-ঝরনা পলিতে ভরাট হয়ে যায়।

    এভাবে মানুষের কর্মকাণ্ডে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ পানিদূষণ (বুড়িগঙ্গার নোংরা পানি) এবং দৃশ্যকল্প-২-এ বায়ুদূষণ (সাভারের পর চোখ জ্বালা) এর সমস্যা উল্লিখিত হয়েছে। এ দুই সমস্যা সমাধানে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যায় বলে আমি মনে করি।

    ১. শিল্পবর্জ্য শোধন: কারখানা ও ট্যানারির তরল বর্জ্য বর্জ্য শোধনাগার (ETP) ছাড়া নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে ঘরবাড়ির আবর্জনা নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে।
    ২. বায়ুদূষণ রোধ: ইটভাটা ও কারখানায় আধুনিক ও কম ধোঁয়াযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
    ৩. বৃক্ষরোপণ ও নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ: বেশি করে গাছ লাগালে ধুলা ও কার্বন ডাই-অক্সাইড কমে। নির্মাণকাজে ধুলা ঢেকে বা পানি ছিটিয়ে রাখতে হবে।
    ৪. সচেতনতা: গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

    সুতরাং, আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তি ও সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করলে পানি ও বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন