গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
জনাব রব্বানী এবং তার স্ত্রী জমিলা ব্যবসা ও চাকুরী নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। বরং সন্তানদের অতিরিক্ত শাসনে রাখেন। তাছাড়া তারা দুষ্টুমি করলে জমিলা তাদেরকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখেন। জমিলার শাশুড়ি সন্তানদের এভাবে শাসন করতে নিষেধ করেন এবং সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তাদেরকে যথেষ্ট সময় দানের পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
Rh অসঙ্গতা কী?
- খ)(2)
কোনটিকে শিশুর প্রথম টিকা বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জমিলার এ আচরণ সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে বিঘ্নিত করছে - ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"শাশুড়ির পরামর্শই পারে জমিলার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনা করতে" -এ সম্পর্কে তোমার মতামত উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মায়ের রক্ত Rh নেগেটিভ এবং গর্ভস্থ শিশুর রক্ত Rh পজিটিভ হলে যে রক্তগত অমিল দেখা দেয়, তাকে Rh অসঙ্গতি বলে।
- খ)
শালদুধকে শিশুর প্রথম টিকা বলা হয়। শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন মায়ের স্তনে যে হলদে ঘন দুধ নিঃসৃত হয়, তাকে শালদুধ বলে। এতে প্রচুর রোগ প্রতিরোধক উপাদান (অ্যান্টিবডি) থাকে, যা শিশুকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। তাই জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো উচিত।
- গ)
জমিলা ব্যস্ততার কারণে সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেন না, অতিরিক্ত শাসন করেন এবং দুষ্টুমি করলে ঘরে বন্দি করে রাখেন। এটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
১. মানসিক বিকাশে বাধা: বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও সময়ের অভাবে শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, ভীতু ও আত্মবিশ্বাসহীন হয়।
২. সামাজিক বিকাশে বাধা: ঘরে বন্দি থাকলে সমবয়সীদের সাথে মেশার সুযোগ থাকে না, ফলে সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠে না।
৩. আবেগীয় বিকাশে বাধা: অতিরিক্ত শাসনে শিশুর মধ্যে ক্ষোভ, জেদ ও বিদ্রোহী মনোভাব তৈরি হয়।
৪. শারীরিক বিকাশে বাধা: খেলাধুলা ও চলাফেরার সুযোগ না পেলে শারীরিক বিকাশও ব্যাহত হয়। - ঘ)
আমি এই মন্তব্যের সাথে একমত। জমিলার শাশুড়ি অতিরিক্ত শাসন করতে নিষেধ করেছেন এবং সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে বলেছেন। তাঁর পরামর্শ বাস্তবায়ন করলে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভব। এর কারণ:
১. সময় দেওয়ায় সম্পর্ক গভীর হয়: বাবা-মা সময় দিলে সন্তান ভালোবাসা ও নিরাপত্তা অনুভব করে, ফলে তার আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিরতা বাড়ে।
২. সুষম শাসনে সঠিক আচরণ গড়ে ওঠে: অতিরিক্ত কড়াকড়ি না করে বুঝিয়ে শেখালে সন্তান নিয়মানুবর্তী ও দায়িত্বশীল হয়।
৩. বন্দি না রেখে স্বাধীনতা দেওয়া: খেলাধুলা ও মেলামেশার সুযোগ পেলে সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সুষ্ঠু হয়।
৪. সঠিক দিকনির্দেশনা: বাবা-মা পাশে থাকলে সন্তান ভুল পথে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।সুতরাং, শাশুড়ির পরামর্শ মেনে চললে জমিলার সন্তানরা সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী হতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও