ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
জনাব 'ক' পরীক্ষার আগে একটি মাজারে গিয়ে পীরের নামে একটি ছাগল কুরবানি করে এবং তার পরীক্ষার ভালো ফলাফল কামনা করে। তার বন্ধু 'খ' ইউরোপে পড়াশুনা করতে গিয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। দেশে ফেরার পর কোনো এক রাতে মদ পান করতে দেখলে তার মা তাকে বললেন, তোমার কাজটি সঠিক নয়। উত্তরে 'খ' বলল, আমার মনে হয় এতে দোষের কিছু নেই।
- ক)(1)
নিফাক কী?
- খ)(2)
আখিরাতে বিশ্বাস করতে হবে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব 'ক'-এর কর্মকান্ডে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ড চিহ্নিতপূর্বক তার পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অন্তরে অবিশ্বাস রেখে মুখে ইসলামের স্বীকৃতি দেওয়াকে নিফাক বলে।
- খ)
আখিরাতে বিশ্বাস না করলে মানুষ দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে অন্যায় ও পাপে লিপ্ত হতে পারে। আখিরাতে বিশ্বাস থাকলে মানুষ জানে, তাকে সব কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এই জবাবদিহির ভয় তাকে পাপ থেকে বিরত রাখে এবং সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়া এটি ইমানের একটি মৌলিক বিষয়, এতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ মুমিন হতে পারে না।
- গ)
জনাব ‘ক’-এর কর্মকাণ্ডে শিরক ফুটে উঠেছে।
শিরক হলো আল্লাহর সত্তা, গুণ বা ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার করা। উদ্দীপকে ‘ক’ মাজারে পীরের নামে ছাগল কুরবানি করে এবং পরীক্ষার ভালো ফলাফল কামনা করে। কুরবানি একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট ইবাদত। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কুরবানি এবং তাঁর কাছে সাফল্য কামনা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮)।
- ঘ)
জনাব ‘খ’-এর কর্মকাণ্ড হলো মদপান, যা একটি ফিসক (পাপাচার)। মায়ের নিষেধের পরও সে একে ‘দোষের কিছু নয়’ বলছে, অর্থাৎ হারামকে বৈধ মনে করছে, যা কুফরের দিকে ঠেলে দেয়। এর পরিণতি:
১. ধর্মীয় পরিণতি: কুরআনে মদকে শয়তানের কাজ বলা হয়েছে এবং তা বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৯০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম। এর শাস্তি আখিরাতে কঠিন।
২. ব্যক্তিগত ক্ষতি: মদ বুদ্ধি নষ্ট করে, স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং মানুষকে মাদকাসক্ত করে।
৩. সামাজিক ক্ষতি: এতে ঝগড়া, অপরাধ ও পারিবারিক অশান্তি বাড়ে।সুতরাং, তওবা না করলে ‘খ’-এর দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও