হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অর্পিতাদের গ্রামে ফাল্গুনী পূর্ণিমায় এক বিরাট উৎসবের আয়োজন করা হয়। অর্পিতা তার মায়ের সাথে সেখানে যায়। সে সকল ধরনের উৎসব উপভোগ করে বুঝতে পারে যে, ধনী-গরীব, নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। সকলেই সবধরনের উৎসব উপভোগ করতে পারে। অপরদিকে কানন তার দিদির সাথে আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে শহরে তার মামার বাসায় বেড়াতে আসে। তার মামার বাসার কাছাকাছি এক বিরাট মন্দির দেখতে পেল। সেখানে সে অনেক লোকের সমাগম দেখতে পায়। ভক্তগণ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে- এ দেখে কাননের মনে এক ধর্মীয় ভাব জাগ্রত হয়। এ যেন এক মিলন মেলা।

  1. ক)

    'জামাই ষষ্ঠী' কখন পালন করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    দিপাবলী' উৎসব পালন করা হয় কীভাবে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে অর্পিতার অংশগ্রহণমূলক অনুষ্ঠানটি কীভাবে তোমার জীবনকে প্রভাবিত করবে তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কানন যে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছে তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে জামাইষষ্ঠী পালন করা হয়।

  2. খ)

    শ্যামা বা কালীপূজার দিন রাত্রে দীপাবলি উৎসব পালন করা হয়। এদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়।
    সচেতনতার আলো জ্বালিয়ে মনের অজ্ঞানতার মোহান্ধকার ও সকল কুসংস্কার দূর করার প্রতীক হিসেবে এটি পালিত হয়। এটি দেওয়ালি, দীপান্বিতা, দীপালিকা ইত্যাদি নামেও পরিচিত।

  3. গ)

    অর্পিতাদের গ্রামে ফাল্গুনী পূর্ণিমায় যে উৎসব হয়, সেটি দোলযাত্রা বা দোলপূর্ণিমা। এখানে ধনী-গরিব ও নারী-পুরুষের ভেদাভেদ থাকে না, সবাই উৎসব উপভোগ করে। এ অনুষ্ঠান আমার জীবনকে নিম্নভাবে প্রভাবিত করবে।

    পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবির-কুঙ্কুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয় এবং পরস্পর রং মাখিয়ে আনন্দ করা হয়। আগের দিন 'বুড়ির ঘর' বা 'মেড়া' পুড়িয়ে অমঙ্গল দূর করার প্রতীকী অনুষ্ঠান হয়। শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা ও গোপীদের সাথে এদিন রং খেলায় মেতেছিলেন, সেই ঘটনা থেকে এর প্রবর্তন। একে বসন্ত-উৎসবও বলা হয়।

    আমার জীবনে প্রভাব: এ উৎসবে শত্রু-মিত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই বিভেদ ভুলে একাত্ম হয়ে যায়। এর মাধ্যমে আমি সকলের সাথে মিলেমিশে চলার, অহংকার ও বিভেদ ত্যাগ করার শিক্ষা পাব। অমঙ্গল দূর করার প্রতীকী অনুষ্ঠান আমাকে মন্দ চিন্তা ত্যাগ করে শুভ ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করবে। সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে এবং আমার মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দের মনোভাব তৈরি হবে।

  4. ঘ)

    কাননের উপভোগ করা অনুষ্ঠানটি হলো রথযাত্রা। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এটি শুরু হয়, মন্দিরে ভক্তদের সমাগম হয় এবং মেলা বসে। কানন একে 'মিলন মেলা' বলে অনুভব করেছে, যা এর তাৎপর্যকেই নির্দেশ করে।

    রথযাত্রা শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের রথযাত্রা নামে পরিচিত। রথ চাকাওয়ালা যান, যাতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা অধিষ্ঠিত থাকেন। ভক্তরা রশি দিয়ে রথ টেনে এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে নিয়ে যান এবং নবম দিনে উল্টোরথের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনেন। ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দির এর মূলকেন্দ্র, আর বাংলাদেশে ঢাকার ধামরাইয়ের রথযাত্রা বিখ্যাত।

    ১. ধর্মীয় তাৎপর্য: রথযাত্রার সময় ভগবানই ভক্তের কাছে নেমে আসেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এতে ভক্তের মনে ধর্মীয় ভাব জাগ্রত হয়, যেমন কাননের হয়েছে।
    ২. সাম্যের শিক্ষা: সবাই একসাথে রথের রশি ধরে। এখানে জাতি-বর্ণের বিভেদ থাকে না, ফলে রথযাত্রা সাম্যের শিক্ষা দেয়।
    ৩. সামাজিক মিলন ও সর্বজনীনতা: হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। নয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান ও মেলায় মানুষের সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
    ৪. অর্থনৈতিক গুরুত্ব: রথের মেলা একদিকে উৎসব, অন্যদিকে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে। মেলায় ব্যবসায়ী ও কারিগরদের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

    সুতরাং, রথযাত্রা ধর্মীয় আবেগ, সাম্য, সামাজিক মিলন ও অর্থনৈতিক সচলতার একটি অনন্য উৎসব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন