হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
অমল বাবু ছেলে-মেয়েদের অর্থকড়ি ব্যয় করে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। তিনি মাতাপিতার দেখাশোনাসহ অতিথি সেবা করেন। সমাজের অন্য সকল কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। অন্যদিকে বিমল বাবু ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মঠ মন্দিরে রাত্রি যাপন করেন। দিনের খাবার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন। রাতে ফলমূল খেয়ে জীবন ধারণ করেন। সবসময় ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন।
- ক)(1)
একেশ্বরবাদ কাকে বলে?
- খ)(2)
ভগবানকে ভোগ্যবস্তু নিবেদন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
অমল বাবুর কর্মকাণ্ড মানবজীবনের কোন আশ্রমভুক্ত? তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বিমল বাবুর কাজের মাধ্যমে কি মুক্তিলাভ সম্ভব? সপক্ষে যুক্তি দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, তিনি একাধিক নন, এই বিশ্বাসকে একেশ্বরবাদ বলে।
- খ)
মানুষ জীবনধারণের জন্য প্রকৃতির দান গ্রহণ করে। এই দানের উৎস স্বয়ং ভগবান এবং প্রকৃতির মধ্য দিয়ে তাঁর মহত্ত্ব প্রকাশিত।
তাই প্রকৃতিদত্ত বস্তু ভোগ করার সময় মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে ভগবানকে ভোগবস্তু নিবেদন করে। এই কাজকে দেবযজ্ঞ বলে। ভগবানকে ভোগ নিবেদন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি উপায়।
- গ)
অমল বাবুর কর্মকাণ্ড মানবজীবনের গার্হস্থ্য আশ্রমভুক্ত।
গার্হস্থ্য আশ্রমের ধারণা: হিন্দুধর্মে শতবর্ষের জীবনকে চার আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে: ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। ব্রহ্মচর্য শেষে বিবাহ করে সংসারধর্ম পালন গার্হস্থ্য আশ্রমের অন্তর্গত। এ আশ্রমে সন্তানের লালন-পালন, পারিবারিক কর্তব্য এবং প্রতিদিন পাঁচটি যজ্ঞ কর্ম অনুশীলন করতে হয়। যজ্ঞগুলো হলো পিতৃযজ্ঞ (মাতা-পিতার সেবা), দেবযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ (পশুপাখির পরিচর্যা), নৃযজ্ঞ (অতিথি সেবা) ও ঋষিযজ্ঞ (শাস্ত্রপাঠ)। এছাড়া সমাজের প্রতি কর্তব্য হিসেবে মঠ, মন্দির, বিদ্যালয় ও চিকিৎসালয় স্থাপনের মতো সেবাধর্ম পালন করতে হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে মিল: অমল বাবু ছেলেমেয়েদের অর্থ ব্যয় করে শিক্ষিত করেন, যা সন্তান-সন্ততির প্রতি দায়িত্ব। তিনি মাতাপিতার দেখাশোনা করেন (পিতৃযজ্ঞ) এবং অতিথি সেবা করেন (নৃযজ্ঞ)। সমাজের অন্যান্য কর্তব্যও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।
অতএব, এসব বৈশিষ্ট্য গার্হস্থ্য আশ্রমের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
বিমল বাবু ভবিষ্যতের কথা ভেবে মঠ-মন্দিরে রাত্রি যাপন করেন, দিনের খাবার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন, রাতে ফলমূল খান এবং সর্বদা ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন। এটি সন্ন্যাস আশ্রমের বৈশিষ্ট্য। আমার মতে, বিমল বাবুর কাজের মাধ্যমে মুক্তিলাভ সম্ভব, তবে কিছু শর্ত রয়েছে।
সন্ন্যাস আশ্রম ও মুক্তি: সন্ন্যাস শব্দের অর্থ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ। সন্ন্যাসী জাগতিক কর্ম ত্যাগ করে একাকী ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন। দুপুরের আহার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন, বাকি দুবেলা দুধ-ফল খেয়ে স্বল্প আহার করেন এবং মন্দির বা দেবালয়ে ক্ষণকাল আশ্রয় নিতে পারেন। মোক্ষলাভ মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
১. ঈশ্বর চিন্তা ও ত্যাগ: উপনিষদের ঋষিগণ মনে করতেন, কর্মফল ভোগের জন্য জীবকে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ হতে হয়। সেই বন্ধন থেকে মুক্তির জন্য সন্ন্যাস গ্রহণ আবশ্যক। বিমল বাবু সবসময় ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন, ফলে তাঁর মোক্ষলাভের পথ সুগম হয়।
২. ভোগাসক্তি ত্যাগ: সন্ন্যাসের মূল কথা কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগ। বিমল বাবুর সরল জীবনযাপন ও স্বল্প আহার ভোগাসক্তি ত্যাগের পরিচয় বহন করে।
৩. সন্ন্যাসের শর্ত: গীতায় বলা হয়েছে, কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন, তিনিই সন্ন্যাসী ও যোগী। শুধু কর্মত্যাগই সন্ন্যাস নয়। তাই বিমল বাবুকে অবশ্যই ফলের আশা ও অহংকার ত্যাগ করতে হবে।তবে লক্ষণীয়, বর্তমান কলিযুগে চার আশ্রম পালন কঠিন। গার্হস্থ্য আশ্রমে থেকে জীবনযাপনই ভালো। তাই অমল বাবুর পথও সমান মূল্যবান।
সুতরাং, ফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগ করে একনিষ্ঠভাবে ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকলে বিমল বাবুর কাজের মাধ্যমে মুক্তিলাভ সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও