হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

মিতা লেখাপড়া শেষ করে বাড়িতে বসে আছে। মিতার বাবা মেয়েকে সংসারী করতে চায়। তাই মিতার জন্য বিশেষ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সকলে উপস্থিত ছিল। সোনার গহনা, লাল পেড়ে শাড়ি পরিয়ে মিতাকে সুন্দর করে সাজানো হয়। অনুষ্ঠানের দিনটি ছিল মিতার জীবনের বিশেষ দিন। অপরদিকে পলির মা মারা যাওয়ায় সে শোকাহত। তাই মায়ের আত্মার শান্তির জন্য বাড়িতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ছাতা, পাদুকা, বস্ত্রসহ বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী উৎসর্গ করে অনুষ্ঠানের কাজ শেষ করে।

  1. ক)

    সমাবর্তন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    হিন্দু নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যাখ্যা দাও।

    (2)
  3. গ)

    মিতার জীবনের বিশেষ দিনের অনুষ্ঠানটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পলির মায়ের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে পালিত অনুষ্ঠানটির পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হয়, তাকে সমাবর্তন বলে।

  2. খ)

    হিন্দু নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো বিবাহ। বিবাহের মাধ্যমে নারী সংসারজীবনে প্রবেশ করেন এবং স্ত্রী ও পরে জননীরূপে মাতৃত্ব লাভ করেন। বিবাহ অনুষ্ঠানের শেষে সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে বিবাহ চিহ্ন দেওয়া একজন হিন্দু নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এরপর থেকে তিনি স্বামীর জীবিতাবস্থায় সিঁথিতে সিঁদুর পরতে পারেন।

  3. গ)

    মিতার জীবনের বিশেষ দিনের অনুষ্ঠানটি বিবাহ। এটি হিন্দুধর্মের দশবিধ সংস্কারের একটি।

    বিবাহ কী: স্মৃতিশাস্ত্র অনুসারে যৌবনে বেদমন্ত্র উচ্চারণ, হোম ও পিতৃপূজার মাধ্যমে বর ও বধূর মিলনরূপ সংস্কারকে বিবাহ বলে। হিন্দুবিবাহ কোনো চুক্তি নয়, এটি জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক অধ্যায়। বিবাহ শব্দের অর্থ বিশেষরূপে ভার বহন করা। মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের কথা আছে। এর মধ্যে বর্তমান সমাজে ব্রাহ্মবিবাহ প্রচলিত। কন্যাকে বস্ত্র দিয়ে আচ্ছাদন করে ও অলংকারে সজ্জিত করে বিদ্বান ও সদাচারী বরের হাতে কন্যা দান করাকে ব্রাহ্মবিবাহ বলে।

    উদ্দীপকের সাথে সংযোগ: মিতা লেখাপড়া শেষ করেছে। তার বাবা তাকে সংসারী করতে চান। অনুষ্ঠানে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। মিতাকে সোনার গহনা ও লাল পেড়ে শাড়ি পরিয়ে সাজানো হয়। এভাবে কন্যাকে বস্ত্র ও অলংকারে সজ্জিত করে অনুষ্ঠান করা ব্রাহ্মবিবাহের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। দিনটি মিতার জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

    অতএব, মিতার অনুষ্ঠানটি বিবাহ সংস্কার, যা ব্রাহ্মবিবাহের রীতি অনুসরণ করেছে।

  4. ঘ)

    পলির মা মারা যাওয়ার পর ছাতা, পাদুকা, বস্ত্রসহ বিভিন্ন দ্রব্য উৎসর্গ করে যে অনুষ্ঠান করা হয়েছে, তা আদ্যশ্রাদ্ধ। এর পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো।

    আদ্যশ্রাদ্ধ: শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ। মৃত্যুর পর প্রথম যে শ্রাদ্ধ করণীয়, তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল শেষ হলে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, মালা, বিছানা প্রভৃতি উৎসর্গ করা হয় এবং পিণ্ডদান করা হয়। একজনের উদ্দেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে একে আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধও বলা হয়।

    ১. সন্তানের কর্তব্য ও শ্রদ্ধা প্রকাশ: পারিবারিক জীবনে পলির মতো সন্তান এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং মায়ের আত্মার শান্তি কামনা করে। এতে সন্তান তার নৈতিক দায়িত্ব পালন করার তৃপ্তি পায়।

    ২. শোক লাঘব ও পারিবারিক বন্ধন: আত্মীয়স্বজন একত্র হয়ে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শোকাহত পরিবার সান্ত্বনা পায় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্পর্ক দৃঢ় হয়।

    ৩. সামাজিক সংহতি: মৃত্যুর পর পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা মৃতের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং পরিবারের দুঃখের সাথে একাত্ম হতে আসেন। এতে সবার মধ্যে সমবেদনা তৈরি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

    ৪. মূল্যবোধের চর্চা: এ অনুষ্ঠান একধরনের মিলনমেলাও হয়। একজনের প্রতি অন্যজনের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা বাড়ে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।

    তবে শ্রাদ্ধের মূল কথা শ্রদ্ধা, কোনো আড়ম্বর নয়। যেখানে শ্রদ্ধা নেই, সেখানে আড়ম্বর থাকলেও শ্রাদ্ধ হয় না।

    সুতরাং, আদ্যশ্রাদ্ধ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন এবং নৈতিক মূল্যবোধ দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন