ভূগোল এবং পরিবেশ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা করির বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর ভাই করিম চট্টগ্রামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় কাজ করেন।দৃশ্যকল্প-২: আরমান সাহেব সম্প্রতি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

  1. ক)

    মাঝারি শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    জনবহুল দেশে ব্যাপকহারে শিল্প কারখানা গড়ে উঠে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত পেশাটি কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত পেশা দুটির মধ্যে কোনটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অধিক সহায়ক? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে শিল্প শতাধিক শ্রমিকের সমন্বয়ে গঠিত হয়, তাকে মাঝারি শিল্প বলে; যেমন চামড়া শিল্প ও তৈরি পোশাক শিল্প।

  2. খ)

    জনবহুল দেশে শ্রমিক সহজে ও কম মজুরিতে পাওয়া যায়। ফলে শিল্পের উৎপাদন খরচ কম হয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান লাভজনক হয়।

    এছাড়া জনসংখ্যা বেশি থাকায় দেশের অভ্যন্তরেই পণ্যের বড় বাজার থাকে। কর্মসংস্থানের প্রয়োজনও বেশি হয়। তাই জনবহুল দেশে ব্যাপকহারে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ আরমান সাহেবের শিক্ষকতা পেশাটি সেবা কার্যক্রম (তৃতীয় স্তরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড) এর অন্তর্গত।

    ১. যে কর্মকাণ্ডে সরাসরি কোনো পণ্য উৎপাদন না করে মানুষকে সেবা প্রদান করা হয়, তাকে সেবা কার্যক্রম বলে।
    ২. শিক্ষক জ্ঞান ও শিক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেবা করেন, কোনো বস্তু তৈরি করেন না।
    ৩. শিক্ষকতার মতো চিকিৎসা, ব্যাংকিং, পরিবহন ও প্রশাসনিক কাজও এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত।

    অতএব, শিক্ষকতা পেশা একটি সেবামূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ করিরের মাছ ধরা (প্রাথমিক কর্মকাণ্ড) ও করিমের পোশাক কারখানার কাজ (দ্বিতীয় স্তর বা শিল্প কর্মকাণ্ড) এই দুটি পেশার উল্লেখ আছে। এর মধ্যে করিমের রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার কাজ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অধিক সহায়ক।

    ১. রপ্তানি আয়: বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক থেকে। মাছ প্রধানত দেশের অভ্যন্তরেই ভোগ হয়, রপ্তানি তুলনামূলক কম।
    ২. মূল্য সংযোজন: কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পোশাকের মূল্য বেশি, তাই বিদেশি বাজারে বেশি আয় হয়।
    ৩. বৃহৎ কর্মসংস্থান: পোশাক কারখানায় বহু মানুষের কাজের সুযোগ হয়, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।

    সুতরাং, মৎস্য আহরণের চেয়ে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের কাজ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অধিক সহায়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন