ব্যবসায় উদ্যোগ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
জনাব রাফিদ একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হলো বিভিন্ন এলাকার সর্বসাধারণের সেবা প্রদান করা। প্রতিষ্ঠানটি অল্প দিনেই বেশ সুনাম অর্জন করেছে।অপরদিকে শাওন, সুজন আরও কয়েকজন মৎস্যচাষি নিজেদের উন্নতির জন্য ২০০১ সালের আইন অনুযায়ী একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। মুনাফার একটি অংশ সদস্যদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন। বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করেছে।
- ক)(1)
অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্র কী?
- খ)(2)
একমালিকানা ব্যবসায়ের দায়ের ধরন ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব রাফিদের কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি মালিকানার ভিত্তিতে কোন ধরনের সংগঠন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আত্মসামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকের জনাব শাওন ও জনাব সুজনের গঠিত সংগঠনটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্র হলো এমন একটি দলিল, যাতে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য, পরিচালনা পদ্ধতি, অংশীদারদের অবস্থান, দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকার এবং বিরোধ মীমাংসার পদ্ধতি লিপিবদ্ধ থাকে।
- খ)
একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম। এ ব্যবসায়ে মালিক ও ব্যবসায় অভিন্ন, তাই ব্যবসায়ের সব দেনার জন্য মালিক নিজেই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। ব্যবসায়ের সম্পদ দেনা পরিশোধে যথেষ্ট না হলে মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারের দেনা শোধ করতে হয়। আবার সব লাভ মালিক একা ভোগ করেন এবং ক্ষতি হলে তাও একাই বহন করেন।
- গ)
জনাব রাফিদের কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি মালিকানার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
সাধারণভাবে সরকার কর্তৃক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে। এর মালিকানা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের হাতে থাকে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং জনসেবা বা জনকল্যাণ। উদ্দীপকে রাফিদের প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ বিভিন্ন এলাকার সর্বসাধারণের সেবা প্রদান করা। মুনাফা নয়, জনসেবা মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে। রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্তার অধিকারী এবং এতে লাভ হলে তা সরকারি তহবিলে জমা হয়।
- ঘ)
জনাব শাওন ও সুজনের গঠিত সংগঠনটি সমবায় সমিতি, কারণ তারা ২০০১ সালের সমবায় আইন অনুযায়ী সমপেশার মৎস্যচাষিরা মিলে নিজেদের উন্নতির জন্য সংগঠনটি গড়েছেন। আত্ম-সামাজিক উন্নয়নে এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
১. সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য সদস্যদের আত্মনির্ভরশীলতা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। শাওন-সুজনরা মুনাফার অংশ চিকিৎসাসহ কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করছেন, যা সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক।
২. একতা ও সহযোগিতা: ‘সকলের তরে সকলে’ নীতিতে সদস্যরা পুঁজি, দক্ষতা ও বাজার সুবিধা একত্র করে দালালদের বঞ্চনা থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
৩. গণতান্ত্রিক পরিচালনা: প্রত্যেক সদস্যের একটি ভোট থাকে, ফলে সবাই সমান সুযোগ পান।
৪. বিস্তৃত সম্ভাবনা: দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি ও গ্রামভিত্তিক পেশায় নিয়োজিত। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা পেলে সমবায় আরও বিস্তৃত হতে পারে।
তবে সদস্যদের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বজায় রাখা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা এর সাফল্যের শর্ত। সুতরাং, সুনাম অর্জন করা এই সমিতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও