হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

নরেশ বাবু একজন ধার্মিক লোক। ছাত্রজীবন শেষে তিনি সমাজসেবায় মনোনিবেশ করেন। সারা ভারত ঘুরে তিনি দেখতে পান মানুষের দুঃখ- দুদর্শা এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের পিছিয়ে পড়ার চিত্র। নারীদের শিক্ষার জন্য তিনি নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন। তিনি নিজে কয়েকটি বাণী উল্লেখ করে বলেন, “যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না।"

  1. ক)

    দুধাজী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    শ্রী বিজয়কৃষ্ণ কেন ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন?

    (2)
  3. গ)

    নরেশ বাবুর কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায় তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'নরেশ বাবুর কর্মকাণ্ড স্বামী বিবেকানন্দের কয়েকটি বাণীর পরিপূরক'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দুধাজী ছিলেন মেড়তার অধিপতি (রাও দুধাজী) এবং মীরাবাঈয়ের পিতামহ।

  2. খ)

    ছাত্রজীবনে শ্রী বিজয়কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজে 'হিতসঞ্চারিণী' সভা স্থাপন করে পৈতা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় ব্রাহ্মসমাজের সাথে তাঁর যোগাযোগ ঘটে।

    মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্রের বক্তৃতা শুনে তাঁর মনে পরিবর্তন আসে এবং তিনি ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরক্ত হয়ে তা গ্রহণ করেন।

  3. গ)

    নরেশ বাবুর কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যপুস্তকের স্বামী বিবেকানন্দ চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

    বিবেকানন্দের পরিচয়: স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি সমাজ সংস্কার ও দেশের উন্নয়নের কথা ভেবেছেন। সারা দেশ ঘুরে তিনি শ্রমিক শ্রেণির মানুষের অবস্থা ও মানুষের দুর্দশা দেখেছেন। তিনি নারীশিক্ষাকে সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন এবং বলতেন, যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না। ১৮৯৭ সালে তিনি রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

    সাদৃশ্য: উদ্দীপকে নরেশ বাবু ধার্মিক, ছাত্রজীবন শেষে সমাজসেবায় নিয়োজিত। সারা ভারত ঘুরে তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও নারীদের পিছিয়ে পড়া দেখেছেন এবং নারীশিক্ষার জন্য কাজ করেছেন। তাঁর বাণী 'যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না' বিবেকানন্দের বাণীর সাথে মিলে যায়।

    অতএব, নরেশ বাবু স্বামী বিবেকানন্দের চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নরেশ বাবু সারা ভারত ঘুরে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও নারীদের পিছিয়ে পড়া দেখে নারীশিক্ষার জন্য কাজ করেন। তাঁর এ কর্মকাণ্ড স্বামী বিবেকানন্দের কয়েকটি বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও তার পরিপূরক। এ উক্তিটি যথার্থ।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী বিবেকানন্দ নারীস্বাধীনতা ও নারীশিক্ষায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং জীবসেবাকে ঈশ্বরসেবা মনে করতেন।

    ১. নারীর মর্যাদা ও শিক্ষা: বিবেকানন্দ বলেছেন, 'যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না।' তিনি আরও বলেন, 'কোনো পাখি একটি ডানা নিয়ে উড়তে পারে না', অর্থাৎ নারীদের উন্নতি ছাড়া বিশ্বের মঙ্গল সম্ভব নয়। নরেশ বাবু নারীদের শিক্ষার জন্য কাজ করে এ আদর্শ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

    ২. জীবসেবাই ঈশ্বরসেবা: বিবেকানন্দের বাণী, 'জীবসেবার চেয়ে বড় ধর্ম আর নেই', 'জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।' নরেশ বাবু ধার্মিক হয়ে সমাজসেবায় মনোনিবেশ করেছেন, যা এ বাণীর প্রতিফলন।

    ৩. শিক্ষার গুরুত্ব: বিবেকানন্দ বলেছেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং নারী-পুরুষ সবাইকে শিক্ষিত করতে হবে। 'যে শিক্ষায় নিজের পায়ের ওপর দাঁড়ানো যায়, সে-ই শিক্ষা।' নরেশ বাবুর নারীশিক্ষা উদ্যোগ এ ভাবনার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।

    ৪. দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো: বিবেকানন্দ দেশ ঘুরে মানুষের অবস্থা দেখে সমাজ সংস্কারের কথা ভেবেছেন। নরেশ বাবুও দুঃখী মানুষের অবস্থা দেখে তা দূর করতে কাজ করেছেন।

    সুতরাং, নরেশ বাবুর কর্মকাণ্ড স্বামী বিবেকানন্দের বাণীর পরিপূরক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন