হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
মাধব ঈশ্বরলাভের ইচ্ছায় রামকৃষ্ণের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। মাধব পরবর্তীতে গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী হয়ে পড়েন। হিন্দুধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা করেন এবং সারা বিশ্বে হিন্দুধর্ম প্রচার করেন। তিনি বেদান্ত সমিতি গুরুদেবের আদর্শ প্রচারের জন্য রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠাসহ নারী শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করেন।
- ক)(1)
বিবেকানন্দের প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
'সকল ধর্মেরই লক্ষ্য এক ঈশ্বরলাভ'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মাধব তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন জীবন চরিত্রের প্রতিচ্ছবি? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের মাধব যে চরিত্রের প্রতিচ্ছবি তিনি নারীশিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করে গেছেন।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বিবেকানন্দের প্রকৃত নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত।
- খ)
বিবেকানন্দ শিকাগোর বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বলেছিলেন, নদীসমূহ যেমন বিভিন্ন পথে এসে এক সাগরে মিলিত হয়, তেমনি সকল ধর্মেরই লক্ষ্য এক—ঈশ্বরলাভ। ধর্মের পথ ও মত ভিন্ন হলেও সবাই শেষ পর্যন্ত এক ঈশ্বরের কাছেই পৌঁছায়। তাই তিনি বিবাদ নয়, সহায়তা এবং মতবিরোধ নয়, সমন্বয় ও শান্তির কথা বলেছেন।
- গ)
উদ্দীপকের মাধব পাঠ্যবইয়ের স্বামী বিবেকানন্দের জীবনচরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
ধারণা : বিবেকানন্দ প্রকৃত নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি ঈশ্বরকে দেখতে চেয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী হন। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর বিশ্বধর্ম সম্মেলনে হিন্দুধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা দেন এবং নিউইয়র্কে ‘বেদান্ত সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। দেশে ফিরে ১৮৯৭ সালে গুরুদেবের আদর্শ প্রচারের জন্য রামকৃষ্ণ মিশন এবং পরের বছর বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : মাধব ঈশ্বরলাভের ইচ্ছায় রামকৃষ্ণের শিষ্য হন, পরে গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী হন, বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা করেন, সারা বিশ্বে হিন্দুধর্ম প্রচার করেন, বেদান্ত সমিতি স্থাপন করেন এবং গুরুর আদর্শ প্রচারে রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সবই বিবেকানন্দের জীবনের ঘটনা।
অতএব, মাধব স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের মাধব যে চরিত্রের প্রতিচ্ছবি, তিনি স্বামী বিবেকানন্দ; তিনি ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি নারীশিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
ধারণা : বিবেকানন্দ অন্য সন্ন্যাসীদের মতো কেবল ঈশ্বরসাধনায় ব্যস্ত থাকেননি; তিনি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কথা ভেবেছেন, যা তাঁর গুরু রামকৃষ্ণও চেয়েছিলেন।
১. নারীশিক্ষা : বিবেকানন্দ নারীস্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং নারীশিক্ষাকে সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন। তিনি বৈদিক যুগের মৈত্রেয়ী ও গার্গীর উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, সে যুগে নারীরা শিক্ষা পেলে এ যুগের নারীরা কেন পারবে না। তাঁর মতে, ‘কোনো পাখি একটি ডানা নিয়ে উড়তে পারে না।’ সারদাদেবীর পরিচালনায় নারীদের জন্য একটি মঠ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তিনি করেছিলেন।
২. সাধারণ শিক্ষা : তিনি দরিদ্রদের কাছে শিক্ষাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন এবং বলেছেন, শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।
৩. সমাজ সংস্কার ও সেবা : জাতিভেদের বিরোধিতা করে বলেছেন নিচু জাতি, দরিদ্র ও অজ্ঞ সবাই ভাই। তিনি বাল্যবিবাহকে ঘৃণা করতেন, বিধবাদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার পক্ষে ছিলেন। ১৮৯৭ সালের দুর্ভিক্ষে অনুসারীদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান।
৪. প্রতিষ্ঠান : রামকৃষ্ণ মিশন ও বেলুড় মঠের মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা ও আপৎকালীন সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে। উদ্দীপকে মাধবের নারীশিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে কাজও একই ধারার।সুতরাং, বিবেকানন্দ ধর্মপ্রচারের পাশাপাশি নারীশিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করেছেন—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও