পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

রাসেল চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কলেজের অনেক শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তার সহপাঠীদের দেখাদেখি সেও একদিন পালিয়ে একটি বাহিনীর অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে 'কামারা' যুদ্ধে অংশগ্রহণকালে গুলির আঘাতে তার একটি পা হারায়। যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে সে তার পরিবারের কাউকে ফিরে পায়নি।

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাব কী?

    (1)
  2. খ)

    গেরিলা যুদ্ধ কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রাসেল মুক্তিযুদ্ধে কোন বাহিনীর সদস্য ছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রাসেল ও তার সঙ্গীরা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে এ কে ফজলুল হক যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যাতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি ছিল, তাকে লাহোর প্রস্তাব বলে।

  2. খ)

    গেরিলা যুদ্ধ হলো ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শত্রুর উপর আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ার যুদ্ধকৌশল।

    এতে স্বল্প অস্ত্র ও লোকবল নিয়ে বড় শত্রুবাহিনীকে দুর্বল করা যায়। গেরিলারা জনগণের সহায়তায় লুকিয়ে থেকে সেতু, রাস্তা ও শত্রু ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে এই কৌশল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল।

  3. গ)

    রাসেল ছিল একজন সাধারণ কলেজ ছাত্র। সে কোনো নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিল না, বরং সহপাঠীদের দেখে পালিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়। তাই সে মুক্তিবাহিনীর গণবাহিনী বা অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য ছিল।

    ব্যাখ্যা: মুক্তিবাহিনী দুই ভাগে গঠিত ছিল। সেনা, ইপিআর, পুলিশ ইত্যাদির সদস্যরা ছিল নিয়মিত বাহিনীতে। আর ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ স্বল্প প্রশিক্ষণ নিয়ে গণবাহিনীতে যোগ দিয়ে গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করেছিল। রাসেলের পরিচয় ও অংশগ্রহণের ধরন তাই গণবাহিনীর সাথে মেলে।

  4. ঘ)

    রাসেল ও তার সঙ্গীরা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, এ কথাটি যথার্থ।

    ১. স্বার্থত্যাগ: রাসেল পড়াশোনা, পরিবার ও নিরাপদ জীবন ফেলে পালিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেয় এবং যুদ্ধে যায়। নিজের সুবিধার চেয়ে দেশের মুক্তিকে সে বড় করে দেখেছে।
    ২. চরম আত্মত্যাগ: পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সে একটি পা হারিয়েছে এবং যুদ্ধ শেষে পরিবারের কাউকে ফিরে পায়নি। এটি স্বাধীনতার জন্য তার ও তার পরিবারের বিরাট ত্যাগ।
    ৩. স্বাধীনতার অর্জন: রাসেলের মতো অসংখ্য ছাত্র ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের ফলেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাদের কারণেই আজ আমরা স্বাধীন দেশে বাস করছি।

    সুতরাং, রাসেল ও তার সঙ্গীরা দেশের জন্য সর্বস্ব উৎসর্গ করেছে বলে তারা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং জাতি চিরকাল তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন