বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
'ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন' কী?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন কেন সংঘটিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রদর্শিত চিত্র ইতিহাসের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উল্লিখিত ঘটনাটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন হলো অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে বাংলায় ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ফকির ও সন্ন্যাসীদের সশস্ত্র বিদ্রোহ।
- খ)
ফরায়েজি আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের লক্ষ্যে। হাজী শরীয়তুল্লাহ মুসলমান সমাজ থেকে কুসংস্কার ও ইসলামবিরোধী প্রথা দূর করে ফরজ বিধান মেনে চলার আহ্বান জানান।
পরে দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলন জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করে। ফলে এটি ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক শোষণবিরোধী আন্দোলনেও রূপ নেয়। - গ)
প্রদর্শিত চিত্র ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে নির্দেশ করে। চিত্রে দিল্লির লাল কেল্লা ও একজন বিদ্রোহী যোদ্ধা দেখা যাচ্ছে।
ইংরেজদের অত্যাচার, ধর্মীয় আঘাত ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় সিপাহিরা বিদ্রোহ করে। দিল্লি ছিল এ বিদ্রোহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহকে নেতা ঘোষণা করা হয়।
সুতরাং, চিত্রটি সিপাহি বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পর্কিত। - ঘ)
হ্যাঁ, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
১. স্বাধীনতার চেতনা: বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এটি দেখিয়েছে যে ব্রিটিশ শাসন অপরাজেয় নয়। এতে ভারতীয়দের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল।
২. শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন: এর ফলে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজের হাতে যায়। এতে মানুষ বুঝতে পারে, শাসনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হওয়া জরুরি।
৩. পরবর্তী আন্দোলন: হিন্দু-মুসলিমের একসঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা পরবর্তী জাতীয় আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে।
সুতরাং, সিপাহি বিদ্রোহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও