বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    বাংলাদেশ জাতিসংঘের কততম সদস্য?

    (1)
  2. খ)

    'পোড়ামাটির নীতির কারণে বাংলাদেশ এক বিধ্বস্ত জনপদে পরিণত হয়'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ছক-১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী কোন দিককে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ছক-২ এ নির্দেশিত বিষয়টি আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য (১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪)।

  2. খ)

    পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত বুঝে যাওয়ার পর পোড়ামাটির নীতি গ্রহণ করে। তারা গ্রাম-গঞ্জে আগুন দেয়, সেতু ও রাস্তা ধ্বংস করে এবং কলকারখানা ও বন্দর নষ্ট করে। ফলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। মানুষ গৃহহীন ও সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। তাই বাংলাদেশ এক বিধ্বস্ত জনপদে পরিণত হয়।

  3. গ)

    ছক-১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়ন-এর দিককে নির্দেশ করছে।

    স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ গড়ে তুলতে কৃষির উন্নয়নে সার ও সেচের ব্যবস্থা নেয়। শিক্ষার উন্নয়নে বিদ্যালয় জাতীয়করণসহ নানা পদক্ষেপ গৃহীত হয়। অর্থনীতিকে সুসংগঠিত করতে ১৯৭৩ সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণীত হয়। ছক-১-এর তিনটি বিষয়ই এই পুনর্গঠনের অংশ।

  4. ঘ)

    ছক-২-এ নির্দেশিত বিষয়—রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার ও মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার—বাংলাদেশের সংবিধান (১৯৭২)-কে নির্দেশ করে। এটি আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক।

    ১. রাষ্ট্রীয় মূলনীতি: সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই চার মূলনীতি স্থান পায়। এগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন।
    ২. মৌলিক অধিকার: নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা, সমতা ও বাকস্বাধীনতাসহ বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
    ৩. সরকারব্যবস্থা: সংসদীয় গণতন্ত্র ও মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সুতরাং, জনগণের মুক্তি, সমতা ও গণতন্ত্রের প্রত্যাশা সংবিধানে প্রতিফলিত হওয়ায় এটি আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন