ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব 'ক' আমেরিকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তার দায়িত্ব ছিলো আমেরিকায় রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা, রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং রাশিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তা সঠিকভাবে আমেরিকান সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করে মাঝে মাঝে কিছু গোপন তথ্য আমেরিকান বিভিন্ন সংস্থার কাছে প্রকাশ করে দিতেন। এটা ছিলো একটি মারাত্মক অপরাধ এবং রাশিয়ার জন্য খুবই ক্ষতিকর। তার কর্মকাণ্ড জানতে পেরে রাশিয়ান সরকার তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। কারণ সে ছিল রাশিয়ার গোপন শত্রু।

  1. ক)

    নবি-রাসুলগণের দাওয়াতের মূলকথা কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    "আমাকে শাফায়াত করার অধিকার দেওয়া হয়েছে"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রাষ্ট্রদূত হিসেবে জনাব 'ক'-এর নিয়োগ প্রাপ্তি ইসলামের কোন বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "জনাব 'ক' তার কর্মের উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছেন"- ইসলামের আলোকে প্রমাণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নবি-রাসুলগণের দাওয়াতের মূলকথা ছিল তাওহিদ, অর্থাৎ এক আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করা।

  2. খ)

    শাফায়াত অর্থ সুপারিশ। কিয়ামতের দিন আল্লাহর অনুমতিক্রমে মহানবি (স) গুনাহগার মুমিনদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করার সুযোগ পাবেন। হাদিসে তিনি আল্লাহর দেওয়া যেসব বিশেষ মর্যাদার কথা বলেছেন, তার একটি হলো শাফায়াতের অধিকার। এই অধিকার আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কার্যকর হবে না এবং কেবল ইমানদারদের জন্য প্রযোজ্য।

  3. গ)

    রাষ্ট্রদূত হিসেবে জনাব 'ক' এর নিয়োগ ইসলামের রিসালাত (নবি-রাসুল প্রেরণ) বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ব্যাখ্যা: রাষ্ট্রদূত নিজ দেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সরকারের বার্তা যথাযথভাবে অন্য দেশে পৌঁছে দেন। তেমনি নবি-রাসুলগণ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাণী ও বিধান কোনো কম-বেশি না করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। রাসুলের দায়িত্ব হলো আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়া, এই আমানত রক্ষা করা এবং নিজে তা পালন করে দেখানো। তাই দূতের দায়িত্ব ও রাসুলের দায়িত্বে মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    জনাব 'ক' রাশিয়ার আস্থাভাজন হয়ে তার গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। বাইরে বিশ্বস্ত, ভেতরে শত্রুতা, এটি মুনাফিকি (কপটতা) এর সমতুল্য। ইসলামের আলোকে তার শাস্তি যথাযথ।

    ১. মুনাফিকের পরিচয়: মুনাফিক মুখে ইমান দাবি করে কিন্তু অন্তরে শত্রুতা পোষণ করে। মহানবি (স) বলেছেন, আমানতে খিয়ানত করা মুনাফিকের লক্ষণ। জনাব 'ক' এর কাজ ঠিক তেমনই, কারণ তিনি রাষ্ট্রের গোপন তথ্যের আমানতে খিয়ানত করেছেন।
    ২. গোপন শত্রু সবচেয়ে ক্ষতিকর: প্রকাশ্য শত্রুর চেয়ে ভেতরের শত্রু বেশি ক্ষতি করে। তাই ইসলামে মুনাফিকদের কঠোর পরিণতির কথা বলা হয়েছে। কুরআনে আছে, মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে (সূরা নিসা: ১৪৫)।
    ৩. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা: বিশ্বাসঘাতকের কঠোর শাস্তি রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং অন্যদের সতর্ক করে।

    সুতরাং, মুনাফিকি ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে জনাব 'ক' যে শাস্তি পেয়েছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে তা উপযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন