হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

লাবণ্য প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে, শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে, ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে পূজা করেন। পূজা শেষে প্রতিদিন গীতা ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন। অন্যদিকে তার স্বামী অতনু বাবু প্রতিদিন সকালে ধ্যানে বসে ঈশ্বরের আরাধনা করেন। তারা উভয়েই মনে করেন, "মানব জীবনে উপাসনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।"

  1. ক)

    উপাসনা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সাকার উপাসনা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    অতনু বাবুর ঈশ্বর আরাধনার পদ্ধতিকে কী বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "মানব জীবনে উপাসনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম"- মন্তব্যটি উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে উপাসনা বলে।

  2. খ)

    যে উপাসনায় বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা বা প্রতীককে উদ্দেশ্য করে ঈশ্বরের আরাধনা করা হয়, তাকে সাকার উপাসনা বা প্রতীক উপাসনা বলে। এখানে ঈশ্বর সগুণ রূপে সাকার হয়ে প্রতিকৃতিতে প্রকাশিত হন। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী ইত্যাদি দেব-দেবীর পূজা এর উদাহরণ। এ উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামেও পরিচিত।

  3. গ)

    অতনু বাবুর ঈশ্বর আরাধনার পদ্ধতিকে নিরাকার উপাসনা বলা হয়।

    ১. নিরাকার অর্থ যার কোনো আকার নেই। এ উপাসনা ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতিকে উদ্দেশ্য করে করা হয় না।
    ২. এটি ধ্যান সাধনার মাধ্যমে করা হয়। অতনু বাবুও প্রতিদিন সকালে ধ্যানে বসে ঈশ্বরের আরাধনা করেন।
    ৩. জ্ঞানযোগ এ উপাসনার একটি অংশ। নিরাকারবাদী যোগীরা ওঙ্কার ধ্যানের মাধ্যমে উপাসনা করেন।

    অতএব, অতনু বাবুর ধ্যানভিত্তিক উপাসনা নিরাকার উপাসনা।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে লাবণ্য সাকার উপাসনা (স্নান করে ধূপ-দীপ জ্বেলে পূজা ও গীতা পাঠ) এবং তাঁর স্বামী অতনু বাবু নিরাকার উপাসনা (ধ্যান) করেন। দুজনেই বলেছেন, 'মানব জীবনে উপাসনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম'। মন্তব্যটি যথার্থ। পাঠ্যবইয়ের আলোকে উপাসনার প্রয়োজনীয়তা নিচে দেওয়া হলো—

    ১. হৃদয় শুদ্ধ করা: উপাসনা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে এবং সুন্দর অনুভূতি সৃষ্টি করে।
    ২. মনের দৃঢ়তা: উপাসনা মনের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে মনের দৃঢ়তা বাড়ায়।
    ৩. মানসিক উন্নতি: এটি কামনা-বাসনা, অহমিকা, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মনকে সত্যের পথে চালিত করে।
    ৪. ঈশ্বরের সান্নিধ্য ও মোক্ষ: উপাসনার মাধ্যমে ভক্ত ঈশ্বরের কাছাকাছি যান। এর প্রধান উদ্দেশ্য ঈশ্বরের সান্নিধ্য এবং শেষে মোক্ষলাভ।

    সুতরাং, লাবণ্য ও অতনু ভিন্ন পদ্ধতিতে উপাসনা করলেও উভয়ের লক্ষ্য এক। মানব জীবনে উপাসনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন