ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: মাহিন নিরক্ষীয় অঞ্চলের একটি দেশে পড়াশোনা করছে। দেশটিতে প্রতিদিন বিকেলে অথবা সন্ধ্যায় এক ধরনের বৃষ্টিপাত হয়।দৃশ্যকল্প-২: জিনিয়া ইউরোপের একটি দেশে বাস করে। তাদের দেশে জলীয়বাম্পূর্ণ গরম ও জলীয় বাষ্পহীন ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এক ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটে। শীতকালে সংঘটিত এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।
- ক)(1)
বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?
- খ)(2)
বায়ুমন্ডলের কোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি শুষে নেয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত বৃষ্টিপাতের সাথে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পৃথিবীর চারদিকে বেষ্টিত জীবজগতের প্রাণধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বায়ুর উপাদানসমূহের আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলে।
- খ)
বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোমণ্ডল স্তর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি শুষে নেয়। এই স্তরে ওজোন (O₃) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে। এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet rays) শুষে নেয়। ফলে অতিবেগুনি রশ্মি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না এবং জীবজগৎ ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত বৃষ্টিপাতটি ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain)। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের ওপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বায়ু এবং স্থলভাগের ওপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ওই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে।
২. শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর ওপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। উঠে যাওয়া উষ্ণ বায়ুর জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৩. এই বৃষ্টিপাত সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৪. মধ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শীতকালে এরূপ বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়।উদ্দীপকে জিনিয়ার ইউরোপীয় দেশে উষ্ণ ও শীতল বায়ুর সংস্পর্শে শীতকালে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি হয়, যা এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-১-এ নিরক্ষীয় অঞ্চলের প্রতিদিন বিকেল বা সন্ধ্যার বৃষ্টিপাতটি পরিচলন বৃষ্টি। এর সাথে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের বৈসাদৃশ্য নিচে দেওয়া হলো-
১. সময়কাল: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর প্রতিদিন বিকেল বা সন্ধ্যায় পরিচলন বৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত মূলত ঋতুভিত্তিক। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি হয় এবং শীতকাল শুষ্ক থাকে।
২. কারণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যকিরণ সারা বছর লম্বভাবে পড়ায় ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ওপরে উঠে বৃষ্টি ঘটায়। বাংলাদেশে বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিমালয় ও পাহাড়ে বাধা পেয়ে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি ঘটায়। এর সাথে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের সংযোগ থাকে।
৩. পরিমাণের বণ্টন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর বৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে বছরের মোট বৃষ্টির প্রায় ৮০ ভাগ বর্ষাকালে হয়।
৪. বৃষ্টির ধরন: বাংলাদেশে বৃষ্টি একাধিক ধরনের। গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে পরিচলন বৃষ্টি হয়, বর্ষায় শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণি বৃষ্টি হয়। কিন্তু নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রধানত পরিচলন বৃষ্টিই হয়।সুতরাং, সময়, কারণ ও ধরনের দিক থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের মৌসুমী বৃষ্টিপাত থেকে ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও