বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্য-১: বখতিয়ার খলজি নদীয়া বিজয়ের মাধ্যমে একটি যুগের সূচনা করেন এবং একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছেন। এটি করার জন্য তিনি কৌশল প্রয়োগ করেন।
দৃশ্য-২: 'ক' নামক একজন শাসকের মৃত্যুর পর ঐ রাজ্যে দীর্ঘদিন অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা চলেছিল। এর পর বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি রাজবংশের সূচনা হয়। যা বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ।

  1. ক)

    কৈবর্ত বিদ্রোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    খড়গ বংশ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্য-১ এর ব্যক্তি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বাংলায় যে বংশের শাসনকাল বিদ্যমান ছিল, উক্ত বংশের পতনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্য-২ এর রাজবংশের সূচনার পূর্বে বাংলায় যে অবস্থা বিরাজ করেছিল উক্ত অবস্থার অবসান কীভাবে ঘটেছিল? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কৈবর্ত বিদ্রোহ হলো পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের শাসনামলে (একাদশ শতকের শেষভাগে) উত্তরবঙ্গ বা বরেন্দ্রে কৈবর্ত নেতা দিব্য (দিব্বোক)-এর নেতৃত্বে সংঘটিত বিদ্রোহ।

  2. খ)

    খড়গ বংশ সপ্তম শতকে সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ) অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন বৌদ্ধ রাজবংশ। এর প্রতিষ্ঠাতা খড়গোদ্যম এবং পরবর্তী শাসকদের মধ্যে জাতখড়গ, দেবখড়গ ও রাজরাজভট্ট উল্লেখযোগ্য। তাঁদের রাজধানী ছিল কর্মান্ত। প্রায় অর্ধশতক তাঁরা এ অঞ্চলে শাসন করেন।

  3. গ)

    দৃশ্য-১-এর ব্যক্তি বখতিয়ার খলজি নদীয়া বিজয়ের সময় বাংলায় সেন বংশের শাসন (লক্ষ্মণ সেন) বিদ্যমান ছিল। সেন বংশের পতনের কারণ ছিল:

    ১. লক্ষ্মণ সেনের বার্ধক্য ও দুর্বল নেতৃত্ব এবং পরবর্তী শাসকদের অযোগ্যতা।
    ২. রাজ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সামন্তদের অনৈক্য ও অসন্তোষ।
    ৩. রাজ্যের প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতির দুর্বলতা।
    ৪. বখতিয়ার খলজির অপ্রত্যাশিত ও কৌশলী আক্রমণ, যার ফলে লক্ষ্মণ সেন নদীয়া ছেড়ে পূর্ববঙ্গে চলে যান।

  4. ঘ)

    দৃশ্য-২-এর রাজবংশ হলো পাল বংশ, যা বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ। এর সূচনার আগে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় এক শতাব্দী ধরে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা চলে, যাকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।

    ১. কোনো কেন্দ্রীয় শক্তি না থাকায় ছোট ছোট শাসক ও সামন্তরা পরস্পর যুদ্ধ করত এবং শক্তিশালী দুর্বলকে গ্রাস করত। বিদেশি আক্রমণও হতো।
    ২. এই অবস্থায় প্রজাসাধারণ ও সামন্ত নেতারা মিলে গোপালকে রাজা নির্বাচিত করেন।
    ৩. গোপাল দক্ষতার সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।

    এভাবে গোপালের নির্বাচন ও শাসনের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন