ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব হাসনাত শ্রীরামপুর গ্রামের একজন পরিচিত মানুষ। নিজ উদ্যোগে বেশকিছু ভালো কাজ করতে চাইলে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরোধিতা করে এবং তাকে এলাকা থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। তখন জনাব হাসনাত অন্য এলাকায় গিয়ে বসবাস করেন এবং এক সময় ঐ এলাকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে এলাকার জনগণের কৃত অপরাধ ক্ষমা করে নিজ এলাকায় ফিরে আসতে চাইলে এলাকার লোকজন তাকে সাদরে গ্রহণ করে। অন্যদিকে এলাকার জনগণের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য আফসার নামে এক যুবক একটি সংঘ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংঘটির উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় ইমাম সাহেব বলেন, এরূপ কর্মকাণ্ডের মধ্যে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিফলন রয়েছে।

  1. ক)

    হারবুল ফিজার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    হযরত আবু বকর (রা)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    জনাব হাসনাতের কর্মকান্ডের সাথে কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আফসারের প্রস্তাবিত সংঘটি চিহ্নিত করে ইমাম সাহেবের বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কুরাইশ ও কায়স গোত্রের মধ্যে নিষিদ্ধ মাসে (হারাম মাসে) সংঘটিত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে হারবুল ফিজার বলে। নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ করা অন্যায় ছিল বলে একে ফিজার (অন্যায়) যুদ্ধ বলা হয়।

  2. খ)

    রাসুল (স)-এর ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়। ভণ্ডনবিরা নবুয়ত দাবি করে, কিছু লোক ইসলাম ত্যাগ করে এবং কেউ যাকাত দিতে অস্বীকার করে। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) দৃঢ়তার সাথে এই সব ফিতনা দমন করেন। এভাবে তিনি ইসলামকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন। তাই তাঁকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।

  3. গ)

    জনাব হাসনাতের কর্মকাণ্ডের সাথে মহানবি (স)-এর হিজরত ও মক্কা বিজয়ের ঘটনার মিল রয়েছে।

    মক্কার কুরাইশরা রাসুল (স)-এর ভালো কাজ ও দাওয়াতের বিরোধিতা করে এবং তাঁকে মক্কা ছাড়তে বাধ্য করে। তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে রাষ্ট্রনেতা হন। পরে মক্কা বিজয়ের সময় তিনি অত্যাচারী কুরাইশদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। উদ্দীপকে হাসনাতকে ভালো কাজের বিরোধিতার কারণে এলাকা ছাড়তে হয়। অন্য এলাকায় তিনি জনপ্রতিনিধি হন এবং পরে অপরাধ ক্ষমা করে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। তাই দুই ঘটনায় সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    আফসারের প্রস্তাবিত সংঘটি হিলফুল ফুযুল। ইমাম সাহেবের বক্তব্য, এই সংঘের মধ্যে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিফলন রয়েছে, যথার্থ।

    ১. শান্তি ও শৃঙ্খলা: হারবুল ফিজারের পর আরবে অশান্তি দেখা দিলে মহানবি (স)-এর উদ্যোগে হিলফুল ফুযুল গঠিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। আফসারের সংঘেরও উদ্দেশ্য এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
    ২. অত্যাচারিতের সাহায্য: সংঘের সদস্যরা অত্যাচারিত ও অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন। এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।
    ৩. নিরাপত্তা ও মানবাধিকার: এই সংঘ স্বদেশি-বিদেশি সবার জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত, যা সামাজিক শান্তির ভিত্তি।

    সুতরাং, হিলফুল ফুযুলের আদর্শে গঠিত সংঘের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাই ইমাম সাহেবের বক্তব্য যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন