ব্যবসায় উদ্যোগ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

তানভির, সজল ও নিরব তিন বন্ধু দশ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে 'ফ্রেন্ডস ট্রান্সকম' নামে একটি ব্যবসায় পরিচালনা করেন। কিছুদিন পর তাদের বন্ধু মনোজকেও তারা অংশীদার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করেন। কিন্তু মনোজ ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেননি এবং পরিচালনায়ও অংশগ্রহণ করবেন না। চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ নিবেন। মনোজ 'সমীর এন্ড কোং' এর নিকট থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধে ব্যর্থ হলে আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হয়। এর কিছুদিন পর তাদের ব্যবসায়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

  1. ক)

    আচরণে অনুমিত অংশীদার কী?

    (1)
  2. খ)

    "প্রচারই প্রসার"- উত্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মনোজ কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ব্যবসায় সংগঠনটির বিলোপসাধন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়ের অংশীদার না হয়েও মৌখিক কথাবার্তা, লেখা বা অন্য কোনো আচরণের দ্বারা নিজেকে অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিলে তাকে আচরণে অনুমিত অংশীদার বলে।

  2. খ)

    "প্রচারই প্রসার" উক্তিটির অর্থ হলো পণ্য বা সেবার প্রচার বাড়লে ব্যবসায়ের প্রসার ঘটে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পণ্যের মান, মূল্য ও ব্যবহারবিধি ক্রেতার কাছে পৌঁছায়। এতে চাহিদা, বিক্রয় ও মুনাফা বাড়ে এবং ব্যবসায়ের সুনাম তৈরি হয়। ফলে বাজার সম্প্রসারিত হয়। তাই প্রচারের মাধ্যমেই ব্যবসায়ের প্রসার সম্ভব।

  3. গ)

    উদ্দীপকে মনোজ নামমাত্র অংশীদার (Nominal Partner)।

    যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন না এবং পরিচালনায় অংশ নেন না, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ পান বা নিজের সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দেন, তিনি নামমাত্র অংশীদার। তার দায় সাধারণ অংশীদারের মতো অসীম নয়। উদ্দীপকে মনোজ ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেননি, পরিচালনায়ও অংশ নেবেন না এবং চুক্তি অনুযায়ী শুধু লাভের অংশ নেবেন। এ বৈশিষ্ট্যগুলো নামমাত্র অংশীদারের সাথে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ফ্রেন্ডস ট্রান্সকম' একটি অংশীদারি ব্যবসায়। এর বিলোপসাধন ঘটেছে বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষ বিলোপসাধন পদ্ধতিতে।

    ১. ধারা ৪২: অংশীদারি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী চুক্তিতে উল্লিখিত কিছু কারণে ব্যবসায়ের বিলোপ হতে পারে। এর মধ্যে আছে ব্যবসায়ের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়া, নির্দিষ্ট কাজ শেষ হওয়া, কোনো অংশীদারের মৃত্যু এবং আদালত কর্তৃক কোনো অংশীদার দেউলিয়া ঘোষিত হওয়া।
    ২. মেয়াদ শেষ: তানভির, সজল ও নিরব দশ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। উদ্দীপকে ব্যবসায়ের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, যা ৪২ ধারার একটি কারণ।
    ৩. অংশীদারের দেউলিয়া: মনোজ ১০ লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আদালত তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করে। এটিও একই ধারার অন্তর্ভুক্ত কারণ।
    ৪. বাধ্যতামূলক নয়: একজন বাদে সকলে বা সকলে বাদে একজন দেউলিয়া হলে ৪১ ধারায় বাধ্যতামূলক বিলোপ হয়। এখানে শুধু মনোজ দেউলিয়া হয়েছেন, তাই এটি বাধ্যতামূলক বিলোপ নয়।

    সুতরাং, মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে এ সংগঠনের বিলোপ বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষ বিলোপসাধন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন