কৃষিশিক্ষা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

উপকূলবর্তী এলাকায় জেগে ওঠা চর মানুষ বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাঁধ তৈরি ও বনায়নের জন্য কার্যক্রম চলছে। এমন সময় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী উক্ত এলাকায় শিক্ষা সফরে যায়। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ এলাকা ও . উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য চিহ্নিত করে।

  1. ক)

    বাংলাদেশে কতটি অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনভূমি আছে?

    (1)
  2. খ)

    সকল উফশী ধান আধুনিক নয়- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত এলাকায় বনায়ন পরিকল্পনায় বৃক্ষ নির্বাচনসহ ভিন্নতার দিকগুলো বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্দীপকের এলাকা দুটির বনায়ন পরিকল্পনার কৌশলগত ভিন্নতা রাখা অপরিহার্য”- বক্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।'

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশে তিনটি অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনভূমি আছে।

  2. খ)

    উফশী (উচ্চফলনশীল) জাতের ধান আধুনিক, তবে সব উফশী ধান আধুনিক নয়। উফশী জাতের মধ্যে অনেক পুরনো জাত (যেমন আইআর-৮) আছে, যেগুলোর ফলন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা জীবনকাল তুলনামূলক কম উন্নত। আধুনিক জাত (যেমন ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯) নতুন প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত বলে ফলন বেশি এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ার ক্ষমতা ভালো।

  3. গ)

    উদ্দীপকে নিজ এলাকা ও উপকূলীয় চরের বনায়নে পার্থক্য আছে।

    উপকূলীয় চরের বনায়ন:
    ১. লবণ ও জোয়ার-ভাটা সহনশীল বৃক্ষ (কেওড়া, গেওয়া, বাইন, ঝাউ, নারিকেল) লাগাতে হবে।
    ২. বাঁধের ধারে ও সমুদ্রের দিকে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করতে হবে।
    ৩. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য ঘন ও ঝড়সহিষ্ণু গাছ বেছে নিতে হবে।

    নিজ (সাধারণ) এলাকার বনায়ন:
    ১. ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ (আম, কাঁঠাল, মেহগনি, নিম) লাগানো হয়।
    ২. এখানে মূল উদ্দেশ্য আয়, জ্বালানি, কাঠ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা।

  4. ঘ)

    "দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্দীপকের এলাকা দুটির বনায়ন পরিকল্পনার কৌশলগত ভিন্নতা রাখা অপরিহার্য", এ বক্তব্যটি যথার্থ।

    ১. ভিন্ন দুর্যোগ: উপকূলীয় এলাকা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততায় ঝুঁকিতে, আর নিজ এলাকা বন্যা, খরা বা নদীভাঙনের মতো সমস্যায় পড়ে।
    ২. ভিন্ন মাটি ও পরিবেশ: চরের মাটি লবণাক্ত ও বেলে, তাই লবণসহিষ্ণু গাছই সেখানে বাঁচে। অন্য এলাকায় ফলদ-বনজ গাছ ভালো জন্মায়।
    ৩. ভিন্ন লক্ষ্য: উপকূলে বনায়নের প্রধান লক্ষ্য রক্ষাকবচ তৈরি, অন্যত্র লক্ষ্য আয় ও পরিবেশ রক্ষা।
    ৪. সম্পদের কার্যকর ব্যবহার: এলাকাভেদে সঠিক গাছ বাছলে খরচ কমে ও সাফল্য নিশ্চিত হয়।

    সুতরাং, এলাকাভেদে বনায়ন পরিকল্পনার কৌশল আলাদা হওয়া অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন