ব্যবসায় উদ্যোগ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
দিনাজপুরের জনাব সামিউল আলম একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের চারু ও কারুকলা বিষয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি পোশাক ডিজাইন করেন। "নীল অপরাজিতা" নামে তার পোশাক ইতোমধ্যে একটা বিশেষ ব্র্যান্ড হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি একজন ভাস্কর এবং ভালো ছবিও আঁকতে পারেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে খ্যাতিমান লোকদের ছবি তৈল চিত্রে ফুটিয়ে তুলেন। খড়িমাটির মধ্যে পৃথিবীর বিখ্যাত মনীষীদের ছবি খোদাই করে তিনি বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। তার কয়েকটি চিত্র ও ভাস্কর্য নন্দিত হওয়ায় তিনি এগুলো আইনগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।
- ক)(1)
পেটেন্ট কী?
- খ)(2)
পণ্যের মান সংরক্ষণে BSTI গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের "নীল অপরাজিতা" নামটি ব্যবসায়ের কোন আইনগত দিককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অঙ্কিত ছবি ও ভাস্কর্য সুরক্ষায় গৃহীত আইন ব্যবস্থার যথার্থতা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পেটেন্ট হলো এক ধরনের মেধাসম্পদ, যার মাধ্যমে আবিষ্কারককে তাঁর আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া মালিকানা দেওয়া হয়।
- খ)
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা। কিছু নির্ধারিত পণ্য নির্ধারিত মান অনুযায়ী উৎপাদন করে BSTI থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সনদপত্র নিতে হয়। মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন না করলে এর সার্টিফিকেশন বা লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। এভাবে এটি উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং ভোক্তাকে মানসম্মত পণ্য পেতে সাহায্য করে। তাই পণ্যের মান সংরক্ষণে BSTI গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
উদ্দীপকের 'নীল অপরাজিতা' নামটি ব্যবসায়ের আইনগত দিকের ট্রেডমার্ক বা পণ্য প্রতীককে নির্দেশ করে।
ব্যবসায়ে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য থেকে আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। ব্র্যান্ড, নাম, শব্দ, লেবেল বা এগুলোর সমন্বয় প্রতীকের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে সামিউল আলমের পোশাক 'নীল অপরাজিতা' নামে একটি বিশেষ ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই নামটি তাঁর পোশাককে বাজারের অন্য পোশাক থেকে আলাদা করে, তাই এটি ট্রেডমার্কের উদাহরণ। রেজিস্ট্রেশন করলে এর ওপর তাঁর একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
- ঘ)
সামিউল আলম তাঁর অঙ্কিত ছবি ও ভাস্কর্য আইনগত সুরক্ষার জন্য কপিরাইট ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে ধরা যায়। এই ব্যবস্থা যথার্থ।
১. সংরক্ষিত সৃষ্টিকর্ম: কপিরাইট আইনের মাধ্যমে গল্প, কবিতা, চিত্রকর্ম, চলচ্চিত্র, সংগীত, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যকলা সুরক্ষিত হয়। তাঁর তৈলচিত্র ও খড়িমাটিতে খোদাই করা ভাস্কর্য এই তালিকায় পড়ে।
২. একচ্ছত্র অধিকার: কপিরাইটের মাধ্যমে সৃষ্টিকারী তাঁর মেধাসম্পদ ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার পান। ফলে অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া তাঁর চিত্র বা ভাস্কর্য নকল করে বিক্রি করতে পারবে না।
৩. আইনি প্রতিকার ও মেয়াদ: বাংলাদেশে কপিরাইট আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৫) প্রচলিত আছে। এই আইনে শিল্পীর জীবনকাল ও মৃত্যুর পর ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট সংরক্ষিত থাকে। নিবন্ধন থাকলে কেউ নকল করলে তিনি আদালতে প্রতিকার চাইতে পারবেন।সুতরাং, তাঁর সুনাম ও আয় রক্ষায় চিত্র ও ভাস্কর্যের জন্য কপিরাইট ব্যবস্থা গ্রহণ যথার্থ হয়েছে। (পোশাকের ব্র্যান্ড 'নীল অপরাজিতা'র জন্য আলাদাভাবে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করা উচিত।)
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও