বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
তিতাসের বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন 'ক' অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। অঞ্চলটি প্রাচীনকালে গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্বতীরে গড়ে উঠেছিল। সম্প্রতি তিনি 'খ' অঞ্চলে বদলি হয়েছেন। অঞ্চলটি প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে দীর্ঘদিন টিকেছিল। জনপদটির রাজধানীতে পাথরে খোদাই করা চাকতিসহ অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ক)(1)
চন্দ্রদ্বীপের অবস্থান কোথায় ছিল?
- খ)(2)
প্রাচীন বাংলায় শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে উঠেছিল কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' ডাঞ্চলটি প্রাচীন বাংলার যে জনপদকে নির্দেশ করে তার বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলটি প্রাচীন বাংলার সব থেকে সমৃদ্ধ জনপদ" উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
চন্দ্রদ্বীপ বালেশ্বর ও মেঘনা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল এর মূল ভূখণ্ড।
- খ)
প্রাচীন বাংলা ছিল নদীমাতৃক দেশ। অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিলের কারণে নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় সমুদ্রপথেও বাণিজ্য চলত। এ ছাড়া নদ-নদী দেশটিকে বিদেশি শক্তির আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষাও দিয়েছিল। এসব কারণে নদী ও সাগরপথে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য রক্ষার জন্য শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে উঠেছিল।
- গ)
উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলটি গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীরে গড়ে উঠেছিল, যা প্রাচীন বাংলার সমতট জনপদকে নির্দেশ করে।
সমতট জনপদ। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশ নিয়ে সমতট গঠিত ছিল। এটি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায়, বঙ্গের পাশাপাশি অবস্থিত ছিল। এর রাজধানী ছিল বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত। কুমিল্লার ময়নামতিতে শালবন বিহারসহ কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। কেউ কেউ বর্তমান কুমিল্লাকেই সমতটের প্রাচীন নাম বলে মনে করেন।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলটির রাজধানীতে পাথরের চাকতিসহ অসংখ্য নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা পুণ্ড্র জনপদকে নির্দেশ করে। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
১. বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ জনপদ গড়ে উঠেছিল। এর রাজধানী পুণ্ড্রনগর পরে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
২. মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। এখানকার নিদর্শনসমূহ উন্নত নগরজীবনের সাক্ষ্য দেয়।
৩. এখানে পাথরের চাকতিতে খোদাই করা মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাচীনতম শিলালিপি বলে ধারণা করা হয়।সুতরাং, প্রত্ননিদর্শন ও নগরসভ্যতার বিচারে পুণ্ড্র প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও