সাহিত্য পাঠ • মাসি-পিসি • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
বাপ-মা মরা অভাগী মেয়ে প্রতিমা দরিদ্র কাকা-কাকীর কাছে বড় হয়েছে। দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে অনেক কষ্টে ভাই-ঝিকে বিয়ে দেন কাকা। অভাগী প্রতিমা শ্বশুরবাড়িতেও সুখের নাগাল পায় না। কারণ তার কাকার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য স্বামী-শাশুড়ি প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তার স্বামী একদিন মারধর করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে। যখন জ্ঞান ফিরে আসে, প্রতিমা কোনোরকমে পালিয়ে কাকা-কাকীর কাছে চলে আসে। ভাইঝি'র এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাকা-কাকী সিদ্ধান্ত নেয় অমন শ্বশুরবাড়িতে তাকে পাঠাবে না তারা।
- ক)(1)
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বেঁচেছিলেন?
- খ)(2)
'যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিমার সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি চরিত্রের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
- ঘ)(4)
"অর্থলিপ্সা মানুষকে পরিপূর্ণ পশু করে তোলে- উদ্দীপকে ও 'মাসি-পিসি' গল্পে এ সত্যটি সন্দেহাতীতভাবে প্রকাশিত হয়েছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র ৪৮ বছর (১৯০৮-১৯৫৬) বেঁচেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুর্বৃত্তদের হাত থেকে আহ্লাদিকে রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্প ও প্রস্তুতি বোঝাতে উক্তিটি করা হয়েছে।
'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদির স্বামী যোগু এবং গ্রামের অসৎ দুর্বৃত্ত গোকুলেরা আহ্লাদিকে তুলে নেওয়ার জন্য ওত পেতে থাকে। বিপন্ন আহ্লাদিকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে মাসি-পিসি বঁটি, দা ইত্যাদি অস্ত্র শানিয়ে এবং বালতি-ঘটি ভরে জল প্রস্তুত রাখে, যাতে দুর্বৃত্তরা আক্রমণ করলে বা ঘরে আগুন দিলে তারা সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করতে পারে। এই আত্মরক্ষামূলক সার্বিক সতর্ক অবস্থাকেই 'যুদ্ধের আয়োজন' বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিমার সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি চরিত্রের স্বামীর নির্যাতন ও আশ্রয়ের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে, তবে অভিভাবকের ধরন ও সিদ্ধান্তের দিক থেকে কিছুটা বৈসাদৃশ্য দেখা যায়।
সাদৃশ্যের দিক হলো, আহ্লাদি ও প্রতিমা উভয়েই পিতৃহীন-মাতৃহীন ও অসহায় নারী। দুজনই যৌতুক ও অর্থলোভী স্বামীর নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার। আহ্লাদিকে তার স্বামী যোগু অমানুষিক মারধর করত, যার ফলে সে মাসি-পিসির আশ্রয়ে চলে আসতে বাধ্য হয়। একইভাবে প্রতিমাও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামী ও শাশুড়ির হাতে নির্যাতিত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং পরে পালিয়ে কাকা-কাকীর কাছে আশ্রয় নেয়।
বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আহ্লাদিকে রক্ষা করেছে তার বিধবা মাসি ও পিসি, যারা সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করেছে। অন্যদিকে প্রতিমা আশ্রয় পেয়েছে তার রক্তসম্পর্কীয় কাকা-কাকীর সংসারে। এছাড়া আহ্লাদির মাসি-পিসি তাকে শুধু শ্বশুরবাড়ি না পাঠিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে আত্মরক্ষার সার্বিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, যা প্রতিমার অভিভাবকের সাধারণ সিদ্ধান্তের চেয়ে বহুগুণে বলিষ্ঠ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"অর্থলিপ্সা মানুষকে পরিপূর্ণ পশু করে তোলে— উদ্দীপকে ও 'মাসি-পিসি' গল্পে এ সত্যটি সন্দেহাতীতভাবে প্রকাশিত হয়েছে"— মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
মানুষের যখন মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেক লোপ পেয়ে শুধুমাত্র অর্থের লোভ প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায়। 'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদির স্বামী যোগু ছিল এক চরম অর্থলোভী ও নির্মম চরিত্র। আহ্লাদির বাবার রেখে যাওয়া জমি ও সম্পত্তির লোভে যোগু আহ্লাদির ওপর চরম নির্যাতন চালাত। এমনকি তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করতেও তার বাধে না। অন্যদিকে গ্রামের অসৎ চরিত্রের গোকুলও ছিল লোভী ও নীতিহীন। আহ্লাদির ওপর যোগুর এই আচরণ পশুপ্রবৃত্তিরই প্রকাশ।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, প্রতিমার স্বামী ও শাশুড়ি যৌতুকের টাকার জন্য প্রতিমার ওপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন চালায়। একজন নারী গর্ভবতী জেনেও তার ওপর যে নির্দয়ভাবে শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়, তা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না; এটি নিখাদ পশুত্বের পরিচায়ক। যৌতুকের লোভে আত্মীয়তার পবিত্র বন্ধন ও মাতৃত্বের মর্যাদাকেও পদদলিত করা হয়েছে।
সুতরাং উদ্দীপকের প্রতিমার শ্বশুরবাড়ির লোক এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের যোগু— উভয়েরই নিষ্ঠুর আচরণের মূল কারণ ছিল অর্থলিপ্সা। তাই অর্থলিপ্সা যে মানুষকে পশুর পর্যায়ে নামিয়ে দেয়, তা উভয় প্রেক্ষাপটেই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও