হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

  1. ক)

    কবি জয়দেব রচিত কৃষ্ণ প্রশস্তিমূলক কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্রহ্মচর্য আশ্রম বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    প্রদর্শিত ছবিটি কোন আশ্রমের অন্তর্ভুক্ত? তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "চিত্রে প্রদর্শিত আশ্রম ছাড়াও হিন্দুধর্মে অন্যান্য আশ্রমের কথা উল্লেখ আছে”- তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কবি জয়দেব রচিত কৃষ্ণ প্রশস্তিমূলক কাব্যগ্রন্থের নাম গীতগোবিন্দ।

  2. খ)

    হিন্দুধর্মে জীবনকে চারটি আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে। এর প্রথম আশ্রম ব্রহ্মচর্য আশ্রম, যা জীবনের প্রথম পঁচিশ বছর। পাঁচ বছর বয়স হলে গুরুগৃহে গমন করে গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ ও তাঁর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করাই ব্রহ্মচর্যাশ্রম। এখানে শিষ্য শাস্ত্র অধ্যয়ন, আত্মসংযম, পরিশ্রম ও কঠোর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। বর্তমানে ব্রহ্মচর্য ছাত্রজীবনে পর্যবসিত হয়েছে।

  3. গ)

    প্রদর্শিত ছবিটি গার্হস্থ্য আশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। ছবিতে বর-কনে ও পুরোহিতকে দেখা যাচ্ছে, যা বিবাহের দৃশ্য। বিবাহ গার্হস্থ্য জীবনের প্রবেশদ্বার।

    হিন্দুধর্মে শতবর্ষের জীবনকে চারটি আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি আশ্রম গড়ে পঁচিশ বছরের। এর মধ্যে দ্বিতীয় পঁচিশ বছর গার্হস্থ্য আশ্রম। ব্রহ্মচর্য শেষে গুরুর নির্দেশে নিজগৃহে ফিরে বিবাহ করে সংসারধর্ম পালন করাই এ আশ্রমের কাজ।

    গার্হস্থ্য আশ্রমের বর্ণনা:
    ১. বিবাহের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততি লাভ এবং তাদের ভরণ-পোষণসহ পারিবারিক জীবনযাপন।
    ২. প্রতিদিন পাঁচটি যজ্ঞ পালন করা: পিতৃযজ্ঞ (মাতা-পিতার সেবা-যত্ন), দেবযজ্ঞ (প্রকৃতিদত্ত বস্তু কৃতজ্ঞচিত্তে ভগবানকে নিবেদন), ভূতযজ্ঞ (পাখিসহ জীবজন্তুর আহার ও পরিচর্যা), নৃযজ্ঞ (অতিথি সেবা) ও ঋষিযজ্ঞ (বেদসহ শাস্ত্র পাঠ করে জ্ঞান ও নৈতিকতা অর্জন)।
    ৩. মঠ, মন্দির, বিদ্যালয়, চিকিৎসালয় ইত্যাদি স্থাপনের মাধ্যমে সমাজের সেবা করা।

    চিত্রের বিবাহ অনুষ্ঠান তাই গার্হস্থ্য আশ্রমের সূচনার প্রতীক। কলিযুগে এই আশ্রমে থেকে জীবনযাপন করাই উত্তম বলে বিবেচিত।

  4. ঘ)

    চিত্রে প্রদর্শিত বিবাহের দৃশ্য গার্হস্থ্য আশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু হিন্দুধর্মে কেবল এই আশ্রম নয়, আরও তিনটি আশ্রমের কথা উল্লেখ আছে, যা ঠিক এই বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ।

    শাস্ত্র অনুসারে মানুষের শতবর্ষ জীবনকে পঁচিশ বছর করে চারটি আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলো ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। এর মধ্যে প্রথম দুটি কর্মযোগ এবং শেষ দুটি জ্ঞানযোগের পরিচয় বহন করে। চিত্রের গার্হস্থ্য ছাড়া অন্য আশ্রমগুলো নিম্নরূপ:

    ১. ব্রহ্মচর্য আশ্রম: জীবনের প্রথম পঁচিশ বছর। পাঁচ বছর বয়সে গুরুগৃহে গিয়ে দীক্ষা নিয়ে শাস্ত্র অধ্যয়ন, আত্মসংযম, পরিশ্রম ও কঠোর জীবনযাপন অভ্যাস করতে হয়। বিদ্যাশিক্ষা শেষে গুরুর নির্দেশে গৃহে ফিরে গার্হস্থ্যে প্রবেশ। বর্তমানে এটি ছাত্রজীবনে পর্যবসিত।
    ২. বানপ্রস্থ আশ্রম: তৃতীয় পঁচিশ বছর। সংসারের দায়িত্ব সন্তানদের উপর ন্যস্ত করে নির্জন পরিবেশে অবসর জীবনযাপন করা হয়। এ সময় সংযম, ত্যাগ ও নির্লোভ আচরণের বিধান আছে। স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে থাকতে পারেন। ভজন, পূজন, কীর্তন, জপ, ধ্যান ইত্যাদির মাধ্যমে এই সময় কাটানো যায়।
    ৩. সন্ন্যাস আশ্রম: শেষ পঁচিশ বছর (পঁচাত্তর থেকে একশ বছর)। 'সন্ন্যাস' অর্থ সম্পূর্ণ ত্যাগ। সন্ন্যাসী একাকী জীবনযাপন করেন, জাগতিক কর্ম ত্যাগ করে ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন। গীতায় বলা হয়েছে, কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন তিনিই সন্ন্যাসী ও যোগী।

    বর্তমান কলিযুগে চার আশ্রমের পূর্ণ অনুশীলন সম্ভব না হলেও আশ্রমের ধারণা হিন্দুধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃত।

    সুতরাং, চিত্রে প্রদর্শিত গার্হস্থ্য আশ্রম ছাড়াও ব্রহ্মচর্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস আশ্রমের কথা হিন্দুধর্মে বলা আছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন