অর্থনীতি • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি প্রশ্ন
নুশরাত ও মিল্টন ভিন্ন দুটি দেশের বাসিন্দা। নুশরাতের দেশের অর্থব্যবস্থায় যাবতীয় সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে মিন্টনের দেশের অর্থব্যবস্থা সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এখানে সরকার প্রয়োজনে উৎপাদন ও ভোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- ক)(1)
বাণিজ্যবাদ কী?
- খ)(2)
মুদ্রাস্ফীতি ঘটে কেন?
- গ)(3)
নুশরাতের দেশের অর্থব্যবস্থা চিহ্নিত করে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মিল্টনের দেশের মতো অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান কি? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বাণিজ্যবাদ হলো এমন একটি অর্থনৈতিক মতবাদ, যেখানে রপ্তানি বাড়িয়ে ও আমদানি কমিয়ে সোনা-রুপার মতো মূল্যবান ধাতু সঞ্চয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ধনী করার কথা বলা হয়েছে।
- খ)
দেশে দ্রব্য ও সেবার সাধারণ দামস্তর ক্রমাগত বাড়াকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। অর্থের জোগান উৎপাদনের তুলনায় বেশি বেড়ে গেলে মানুষের হাতে বেশি টাকা আসে এবং দ্রব্যের চাহিদা বাড়ে। তখন দামও বাড়ে। এছাড়া উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি বা দ্রব্যের জোগান কমে যাওয়াও মুদ্রাস্ফীতির কারণ হতে পারে।
- গ)
নুশরাতের দেশের অর্থব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।
ব্যাখ্যা: যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্র বা সমাজের হাতে থাকে এবং সম্পদ সমাজের সবার কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। উদ্দীপকে নুশরাতের দেশে যাবতীয় সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, যা এই ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। এখানে ব্যক্তিগত মুনাফার চেয়ে সমাজের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই নুশরাতের দেশের অর্থব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক।
- ঘ)
মিল্টনের দেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ পাশাপাশি চলে এবং সরকার প্রয়োজনে উৎপাদন ও ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি মিশ্র অর্থব্যবস্থা। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এই ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান, আমি তা সমর্থন করি। কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো।
১. দুই ব্যবস্থার সুবিধা: এতে ধনতন্ত্রের মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকে এবং সমাজতন্ত্রের মতো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও কল্যাণের সুযোগও থাকে।
২. ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন: বেসরকারি খাত দক্ষতা ও মুনাফার ভিত্তিতে চলে, আর সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর মতো জনকল্যাণমূলক খাতে ভূমিকা রাখে।
৩. নমনীয়তা: পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা বদলানো যায়, ফলে বিভিন্ন দেশের পক্ষে এটি গ্রহণ করা সহজ।সুতরাং, এসব সুবিধার কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মিল্টনের দেশের মতো মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও