ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: সাব্বির পার্বত্য অঞ্চলে বেড়াতে গিয়ে লক্ষ করল পর্বতটির একপাশে 'বৃষ্টি হচ্ছে।দৃশ্যকল্প-২: মিতু যে দেশে বসবাস করে সেখানে সারা বছর প্রতিদিন বিকাল বেলা বৃষ্টিপাত হয়। সে ইউরোপের একটি দেশে বেড়াতে যায়। ত ড়াতে যায়। তখন সেখানে শীতকাল ছিল। সে জানতে পারে এই সময়ে সেখানে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    আর্দ্র বায়ু কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বনভূমিতে বায়ু তুলনামূলকভাবে শীতল হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সাব্বিরের দেখা বৃষ্টিপাতটির সংঘটন প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মিতুর দেখা বৃষ্টিপাত দুটির সংঘটন প্রক্রিয়া কি একইরূপ? তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে (প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ), তাকে আর্দ্র বায়ু বলে।

  2. খ)

    গাছপালা প্রস্বেদন ও বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বায়ুতে জলীয়বাষ্প ছাড়ে, যা বায়ুকে আর্দ্র করে। বনভূমিতে ঘন পাতার কারণে সূর্যালোক মাটিতে পৌঁছাতে পারে না, ফলে ভূমি কম উত্তপ্ত হয়।

    এই দুই কারণে বনভূমির বায়ু তুলনামূলকভাবে শীতল থাকে।

  3. গ)

    সাব্বিরের দেখা বৃষ্টিপাতটি শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain), কারণ বৃষ্টিটি পর্বতের একপাশে হচ্ছিল।

    সংঘটন প্রক্রিয়া:
    ১. জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় গমনপথে উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায়।
    ২. বাধা পেয়ে বায়ু ওপরের দিকে উঠে যায় এবং প্রসারিত হয়।
    ৩. পর্বতের উঁচু অংশে বায়ু শীতল হয়ে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়।
    ৪. ফলে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত হয়। অপর পাশ বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হয়ে থাকে।

    যেমন: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয়ে বাধা পেয়ে আসামে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়।

  4. ঘ)

    না, মিতুর দেখা বৃষ্টিপাত দুটির সংঘটন প্রক্রিয়া একইরূপ নয়। দৃশ্যকল্প-২ এর প্রথম বৃষ্টি পরিচলন বৃষ্টি এবং ইউরোপে শীতকালের দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ঘূর্ণি বৃষ্টি।

    তুলনামূলক আলোচনা:
    ১. পরিচলন বৃষ্টি: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর সূর্যকিরণ লম্বভাবে পড়ে এবং জলভাগ বেশি, তাই বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। দিনের বেলায় ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হলে উষ্ণ ও হালকা বায়ু সোজা ওপরে ওঠে, শীতল বায়ুর সংস্পর্শে ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টি হয়। তাই বিকেল বা সন্ধ্যায় প্রতিদিন বৃষ্টি হয়।
    ২. ঘূর্ণি বৃষ্টি: বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হলে সমুদ্র থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বায়ু ও স্থলভাগের শুষ্ক শীতল বায়ু একই কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। ভারী শীতল বায়ুর ওপর উষ্ণ বায়ু ধীরে ধীরে ওঠে ও ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি ঘটায়।
    ৩. পার্থক্য: পরিচলন বৃষ্টি উষ্ণ বায়ুর খাড়া ঊর্ধ্বগমনে হয় এবং অল্প সময় মুষলধারে ঝরে। ঘূর্ণি বৃষ্টি নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে বায়ুর অনুভূমিক গতিতে হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

    সুতরাং, দুটি বৃষ্টির সংঘটন প্রক্রিয়া ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন