কৃষিশিক্ষা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

ইউনুস মিয়া কয়েক বছর যাবৎ তার বাগানে কলার চাষ করতেন । হঠাৎ একদিন দেখতে পান বাগানের অধিকাংশ পাতাই ভেঙে গেছে। তিনি আরও লক্ষ করেন যে পাতাগুলো হলুদও হয়ে গেছে। তিনি তৎক্ষণাৎ প্রতিবেশী একজন কৃষকের পরামর্শে নির্ধারিত হারে ম্যালথিয়ন প্রয়োগ করলেন ।

  1. ক)

    বোঁটা চারা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কলাচাষে কোন ধরনের চারা রোপণের উপযোগী? ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে করণীয় কী?

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো ইউনুস মিয়া কলাচাষে সফল হবেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কলার মাতৃগাছের গোড়ার কন্দ থেকে গজানো যে অপত্য চারা বংশবিস্তারের জন্য ব্যবহার করা হয়, তাকে বোঁটা চারা বলা যায়।

  2. খ)

    কলাচাষে তলোয়ার চারা (Sword sucker) রোপণের উপযোগী। এ চারার পাতা সরু ও তলোয়ারের মতো, কন্দ বড় ও শক্ত। এতে পুষ্টি সঞ্চিত থাকায় চারা দ্রুত বাড়ে, রোগ-পোকা কম আক্রমণ করে এবং ফলন ভালো হয়। পানি চারা দুর্বল ও ফলন কম দেয়, তাই তা রোপণ করা হয় না।

  3. গ)

    উদ্দীপকে পাতা হলুদ হয়ে বোঁটার কাছে ভেঙে ঝুলে পড়ার লক্ষণ দেখে সমস্যাটিকে ছত্রাকজনিত রোগ (পানামা রোগ) বলে ধরা যায়। করণীয়:
    ১. আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে বা মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা।
    ২. বাগানে পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা রাখা এবং রোগমুক্ত চারা রোপণ করা।
    ৩. কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা।
    ৪. একই জমিতে বারবার কলা না লাগিয়ে ফসল পর্যায়ক্রম মানা।

  4. ঘ)

    না, আমি মনে করি ইউনুস মিয়া এভাবে কলাচাষে সফল হবেন না। কারণ:
    ১. ম্যালথিয়ন একটি কীটনাশক, যা পোকা দমনে ব্যবহার হয়। কিন্তু উদ্দীপকের লক্ষণ (পাতা হলুদ হয়ে ভেঙে যাওয়া) সাধারণত ছত্রাকজনিত রোগের, যা ছত্রাকনাশক দিয়ে দমন করতে হয়।
    ২. তিনি রোগ শনাক্ত না করে প্রতিবেশীর পরামর্শে ওষুধ দিয়েছেন। ভুল ওষুধে সমস্যা না কমে বরং রোগ ছড়াতে পারে।
    ৩. আক্রান্ত গাছ সরানো ও পানি নিষ্কাশনের মতো ব্যবস্থা তিনি নেননি।

    সুতরাং, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে তিনি সফল হবেন না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন